আঙ্কটাডের প্রতিবেদন

টাকা পাচার প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে

  সম্পাদকীয় ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাণিজ্য সংস্থা আঙ্কটাডের রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের এক উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম সমস্যা টাকা পাচার। আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দেশের মোট রাজস্ব আয়ের ৩৬ শতাংশ পাচার হয়েছে বিদেশে।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের মোট রাজস্ব আয় ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। আঙ্কটাডের হিসাব অনুযায়ী এর ৩৬ শতাংশ পাচার হয়ে থাকলে এই সময়ে পাচার হয়েছে ৬৫৪ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংস্থা, বিশেষত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) জরিপে উঠে এসেছে টাকা পাচার সংক্রান্ত নানা তথ্য। আগে দেশ থেকে হুণ্ডি ও চোরাচালানের মাধ্যমে টাকা পাচার হতো, এখন হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাচার হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।

খতিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ টাকাই পাচার হয়েছে আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে। এ ছাড়া বেশি দামের পণ্যের এলসি খুলে কম দামের পণ্য এনে, কখনও বা আমদানির ঘোষণার চেয়ে কম পরিমাণে পণ্য এনে এবং কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই পণ্য না এনে টাকা পাচার হয়েছে।

আমরা মনে করি, আমদানি-রফতানির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ করতে ব্যাংক ও কাস্টম হাউসই যথেষ্ট। তারা সতর্ক হলেই এ ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া সম্ভব। আমদানি এলসি খোলা এবং পণ্য দেশে আসার সময় ব্যাংক ও কাস্টমস কর্মকর্তারা এগুলো পরীক্ষা করে থাকেন।

তারা প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনে পরীক্ষা করলেই টাকা পাচার রোধ করা সম্ভব। টাকা পাচার রোধে কাস্টমস ও বিমানবন্দরে স্ক্যানার বসানো হলেও সুফল মিলতে পারে। এক পণ্যের কথা বলে অন্য পণ্যের আমদানি ঠেকানোর জন্য স্ক্যানার আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্বর্ণ ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যসহ বেশি দামের পণ্য এসব স্ক্যানার দিয়ে যাচাই করা হবে। এতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি যেমন বন্ধ হবে, তেমনি বন্ধ হবে অর্থ পাচার। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কাস্টম হাউসের পাশাপাশি প্রতিটি স্থলবন্দরে ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও কনটেইনার স্ক্যানার বসানো হবে।

বলা হয়েছে, আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব কাস্টম হাউস, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে স্ক্যানার বসানো হবে। এসবই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমাদের কথা হল, দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে যে কোনো উপায়ে। টাকা পাচারের সব ছিদ্র ও ফাঁক বন্ধ করার দায়িত্ব নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×