সড়ক আইন নিয়ে অচলাবস্থা: দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন

  সম্পাদকীয় ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক আইন

নতুন সড়ক আইনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বস্তুত, এটা স্পষ্ট- যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়াই নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। এ অবস্থায় সড়ক আইনের শিথিল প্রয়োগের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এমনটি হলে দুর্ঘটনার পর কোন্ ধারায় মামলা দায়ের হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। গত বৃহস্পতিবার সকালে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করতে পারেনি পুলিশ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসলেও ওই সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের শীর্ষনেতা কার্যকরী সভাপতি সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী যোগ না দেয়ায় অচল মহাসড়ক সচল হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাসহ সড়ক আইনের নয়টি ধারা পর্যালোচনার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করলেও এ আইনের আওতায় মামলা ও শাস্তি দেয়ার কার্যক্রম মৌখিকভাবে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় হতেই বিপত্তি দেখা দেয়; শুরু হয় পরিবহন ধর্মঘট।

মনে রাখতে হবে, এর মাধ্যমে শুধু যাত্রীদেরই জিম্মি করা হচ্ছে না, জিম্মি করা হচ্ছে সরকারকেও। কারণ নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, যত চাপই থাকুক, আইনটি বাস্তবায়ন করতেই হবে। বস্তুত, জনগণও আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন চায়।

লক্ষ করার বিষয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও দেশের সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বাস্তবতায় দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কঠোর ভূমিকার বিকল্প নেই।

অবশ্য বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে এমন কোনো অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া সঙ্গত হবে না, যা চালকদের মানুষ হত্যার বৈধতা দেয়ার শামিল।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইনের জনদাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে আইনটি কার্যকর হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবির কারণে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে দৃঢ় ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। বস্তুত, সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুর্ঘটনা এমনিতেই কমে আসবে। যথাযথ পদক্ষেপ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যেতে পারে। যেমন, সড়কে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বসিয়ে তা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল রোধ করা সম্ভব। ওভারটেকিং, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা- এসব ক্ষেত্রে আইন মানতে চালকদের বাধ্য করতে হবে।

সেজন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। মোটকথা, যানবাহন চলাচলে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করতে হবে কঠোরভাবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কোনো কর্মসূচিই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের সব ধরনের কর্মসূচি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে, এটাই কাম্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×