সোহরাওয়ার্দীতে কেনাকাটায় অনিয়ম: বেড়ায় কি ক্ষেত খেয়েই যাবে?

  সম্পাদকীয় ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোহরাওয়ার্দীতে কেনাকাটায় অনিয়ম: বেড়ায় কি ক্ষেত খেয়েই যাবে?

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সরকার নির্ধারিত দামের ১৬ গুণ পর্যন্ত বেশিতে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করতে গিয়ে জনগণের করের অর্থ লোপাট ও ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, এসব আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটানো হয়েছে হাসপাতালটির খোদ পরিচালকের নেতৃত্বে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে পরিচালকের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম ও মসৃণ রাখতে দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর একজন অ্যাকাউন্টেন্টকে বরখাস্ত করলেও তাকে বহাল তবিয়তে অফিস করার সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এক ওয়ার্ড মাস্টারকে করে রাখা হয়েছে লোকাল ওয়ার্ডের মেইনটেন্যান্স ম্যানেজার। হাসপাতালটির খোদ পরিচালকের বিভাগীয় মামলায় সাজা হলেও তিনিও আছেন বহাল তবিয়তে। হাসপাতালটিতে অনেকটা ‘বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার’ অবস্থা বিরাজ করছে। রাজধানীতে স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানটিতে এমন অনিয়ম-দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক সহকারী পরিচালক থাকার সময় থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতির নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন, যা পরিচালক হওয়ার পর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেমন- একটি কোবলেশন মেশিন কেনা হয়েছে ৯৬ লাখ টাকায়, অথচ সরকারি প্রাইস গাইডে ওই মেশিনের দাম ধরা আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা। এতে জনগণের করের অর্থ ৯০ লাখ টাকার মতো লোপাট করা হয়েছে। এছাড়া ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দরে দুটি ওটি লাইট কেনা হয়েছে, যদিও সরকারি প্রাইস গাইডে প্রতিটি ওটি লাইটের দাম সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা। এভাবে প্রতিটি পণ্যের কেনাকাটায় কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়তি দামের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে। রাজধানীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এমন ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি করা হলে রিমোট এলাকাগুলোতে কী হচ্ছে, ভাবা যায়!

সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে সবচেয়ে বেশি আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতির লাগাম অনেকটা টেনে ধরা যাবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের মতো অতি স্পর্শকাতর খাতের কেনাকাটায় অনিয়মের কারণে মানসম্মত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে কিনা, তা-ও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। অনেক ক্ষেত্রে দেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার ফল একরকম হলেও দেশের বাইরে পরীক্ষা করালে সেটি ভিন্ন রকম হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা খাত থেকে জনগণের আস্থা উঠে যাচ্ছে, যার প্রমাণ বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া। অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানার জন্য সরকারের উচিত কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×