পরিবহন সংকট দূর করুন

  সিয়াম আহমেদ ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবহন সংকট দূর করুন
সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় সংকট কয়েক দশকের। এ খাতে অরাজকতা ও ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালনার ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অগণিত মানুষ। বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষার্থী ও জনগণের আন্দোলন ও প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ সরকার এ খাতে শৃঙ্খলা আনার ব্যাপারে নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাস হয়। আইনটি বাস্তবায়নে সরকার ১৩ মাস সময় নেয়। অবশেষে এ বছর নভেম্বরে কার্যকর করা হয় নতুন আইন। কিন্তু সপ্তাহ না যেতেই সারা দেশে ঘোষিত-অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। ফলে দেশের পরিবহন খাতের সংকটের জল আরও ঘোলা হয় ওঠে। এ অবস্থায় পরিবহন খাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নতুন পরিবহন আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে কাভার্ড ভ্যান। সত্যি বলতে কী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তালিকায় কাভার্ড ভ্যান নামের কোনো যানবাহন নেই। এটি একটি রূপান্তরিত যান, যা আইনত নিষিদ্ধ। বর্তমানে দেশে প্রায় ২২ হাজার কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। এগুলো গত একযুগে ধীরে ধীরে রাস্তায় নামানো হয়েছে। প্রশ্ন হল, সরকার কেন শুরু থেকেই এ ধরনের অননুমোদিত যানবাহনের বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নেয়নি? এখন হঠাৎ করে নিষিদ্ধ করতে গেলে সংশ্লিষ্টদের মনে ক্ষোভ দেখা দেবে এটাই স্বাভাবিক। আইনের সঠিক প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টি ধাপে ধাপে হওয়া উচিত।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, গত ১৫ বছরেও আমরা সিটিংয়ের নামে ‘চিটিং’ বাস সার্ভিস বন্ধ করতে পারিনি। অসাধু পরিবহন মালিক আর কিছু স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিবাজ আমলার চক্রান্তের ফলে সরকারের পুরো প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল নগরী। এখানে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চলাচলের জন্য বিপুলসংখ্যক যানবাহন প্রয়োজন, যার অভাব প্রকট। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি রাস্তার সংখ্যা ও পরিধি। পর্যাপ্ত বাস ও ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় গাড়িগুলোকে রাস্তাতেই পার্ক করে রাখা হচ্ছে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, স্মার্ট ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সময়োপযোগী আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই পরিবহন খাতে বিদ্যমান সংকট থেকে পরিত্রাণ মেলা সম্ভব।

পরিবহন খাতের সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে এককেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে। দেশে বর্তমানে ৪২ লাখের ওপর যানবাহন রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, তদারকি ইত্যাদি কার্যক্রম সরকারের একার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ সমস্যার সমাধানে পরিবহন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণের ভার বিভিন্ন বেসরকারি অপারেটরের (কোম্পানির) হাতে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অপারেটরগুলোর জবাবদিহিতা ও তদারকি নিশ্চিত করার জন্য রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে হবে।

দেশে পরিবহন সংকটের মূলে রয়েছে পরিকল্পনা প্রণয়নের অদক্ষতা। যারা গণপরিবহনগুলোর রুট পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন তারা একই রুটে ১০-১২টি কোম্পানির বাস অনুমোদন করে থাকেন। এর ফলে চালকদের মাঝে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাধারণ রুট বিন্যাস পদ্ধতির পরিবর্তে ফ্রেঞ্চাইজিভিত্তিক স্মার্ট রুট বিন্যাস করা প্রয়োজন। এতে একটি রুটে কেবল একটি অপারেটর বা কোম্পানির বাসই সেবা দেবে। এতে করে যেমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে, তেমনি সাধারণ মানুষ সুশৃঙ্খল হতে শিখবে। ফলে অরাজকতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

সিয়াম আহমেদ : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : পরিবহণ আইন ২০১৮

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×