আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই
jugantor
আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই

  তানজিনা পিয়াস  

১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কথায় আছে, ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’। আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কথাটার সত্যতা পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায়। আমাদের সমাজে নানা অপরাধ প্রতিনিয়ত তাদের শাখা-প্রশাখা মেলে চলেছে। আরও বেশি মজবুত হচ্ছে অন্যায়ের শেকড়। মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে শকুনেরা।

খবরের কাগজ, ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার হেডলাইনে থাকে ধর্ষণ-হত্যা-নারী পাচারের খবর। এখানেই শেষ নয়। বাড়ছে শিশুশ্রম, শিশুহত্যা, এমনকি শিশুধর্ষণের মতো ঘটনাও। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এমন নৃশংস, গায়ে কাঁটা দেয়া ঘটনা ঘটছে।

এর কোনোটা ভাইরাল হয়, কোনোটা চাপা পড়ে যায় ভয় আর ক্ষমতার অপপ্রয়োগের কাছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে এদেশের আইনব্যবস্থা খুব দ্রুতই মুখ থুবড়ে পড়বে। বেশিদিন লাগবে না এদেশের ইতিহাসে কালো দাগ লাগার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের দেশকে নিয়ে, তার সঙ্গে কি আজকের ঘটনাগুলোর কোনো মিল পাওয়া যায়? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা বাঙালি জাতি কি তার সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম? সেই যোগ্যতা আজকের বাঙালির কি আছে!

তনু, নুসরাত, রুম্পার মতো আর কত মেয়ে ভিক্টিম হলে এদেশের আইনব্যবস্থা জেগে উঠবে? আর কত মানুষকে প্রকাশ্যে খুন করা হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ শুরু হবে? বিচারের রায় হয়েছে, তা কার্যকর হতে বিলম্ব হলে একসময় দেখা যাবে ধামাচাপা পড়ে গেছে অপরাধগুলো। ফলস্বরূপ আরও কয়েকটা প্রকাশ্য খুন কিংবা ধর্ষণ!

সম্প্রতি ভারতীয় চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির ধর্ষণ আর হত্যার ঘটনা তুমুল ঝড় তুলেছিল সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিল ভারতীয় জনতা। তাই বাধ্য হয়েই হোক কিংবা আইনবহির্ভূতভাবেই হোক, ক্রসফায়ারে মারা হয়েছে চার ধর্ষণকারীকেই। অথচ আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে যদি ধর্ষণকারীদের শাস্তি হতো, তাহলেই খুন-ধর্ষণ নামক অভিশাপগুলো অনেকাংশে কমে যেত।

আমাদের দেশেও ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তত একজন ধর্ষককেও যদি ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়া হতো, তাহলে ধর্ষক নামক শকুনগুলো কিছুটা হলেও ভয় পেত এদেশের আইনকে।

প্রধানমন্ত্রীর উচিত এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। এই দেশ আমাদের মায়ের মতো। মায়ের বুকে কোনো মেয়েকে অপমান করা হলে এ দেশমাতাকে অপমান করা হয়, দেশের প্রত্যেক নারীকে অপমান করা হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দেশের সব নারীর নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবেন আর ভবিষ্যতেও ভাববেন এবং যথাযথ আইন প্রয়োগের দিকটা বিবেচনা করবেন আশা করি।

তানজিনা পিয়াস : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই

 তানজিনা পিয়াস 
১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কথায় আছে, ‘জাস্টিস ডিলেইড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’। আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কথাটার সত্যতা পুরোপুরি উপলব্ধি করা যায়। আমাদের সমাজে নানা অপরাধ প্রতিনিয়ত তাদের শাখা-প্রশাখা মেলে চলেছে। আরও বেশি মজবুত হচ্ছে অন্যায়ের শেকড়। মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে শকুনেরা।

খবরের কাগজ, ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার হেডলাইনে থাকে ধর্ষণ-হত্যা-নারী পাচারের খবর। এখানেই শেষ নয়। বাড়ছে শিশুশ্রম, শিশুহত্যা, এমনকি শিশুধর্ষণের মতো ঘটনাও। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এমন নৃশংস, গায়ে কাঁটা দেয়া ঘটনা ঘটছে।

এর কোনোটা ভাইরাল হয়, কোনোটা চাপা পড়ে যায় ভয় আর ক্ষমতার অপপ্রয়োগের কাছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে এদেশের আইনব্যবস্থা খুব দ্রুতই মুখ থুবড়ে পড়বে। বেশিদিন লাগবে না এদেশের ইতিহাসে কালো দাগ লাগার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের দেশকে নিয়ে, তার সঙ্গে কি আজকের ঘটনাগুলোর কোনো মিল পাওয়া যায়? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা বাঙালি জাতি কি তার সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতাম? সেই যোগ্যতা আজকের বাঙালির কি আছে!

তনু, নুসরাত, রুম্পার মতো আর কত মেয়ে ভিক্টিম হলে এদেশের আইনব্যবস্থা জেগে উঠবে? আর কত মানুষকে প্রকাশ্যে খুন করা হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ শুরু হবে? বিচারের রায় হয়েছে, তা কার্যকর হতে বিলম্ব হলে একসময় দেখা যাবে ধামাচাপা পড়ে গেছে অপরাধগুলো। ফলস্বরূপ আরও কয়েকটা প্রকাশ্য খুন কিংবা ধর্ষণ!

সম্প্রতি ভারতীয় চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডির ধর্ষণ আর হত্যার ঘটনা তুমুল ঝড় তুলেছিল সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিল ভারতীয় জনতা। তাই বাধ্য হয়েই হোক কিংবা আইনবহির্ভূতভাবেই হোক, ক্রসফায়ারে মারা হয়েছে চার ধর্ষণকারীকেই। অথচ আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে যদি ধর্ষণকারীদের শাস্তি হতো, তাহলেই খুন-ধর্ষণ নামক অভিশাপগুলো অনেকাংশে কমে যেত।

আমাদের দেশেও ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তত একজন ধর্ষককেও যদি ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়া হতো, তাহলে ধর্ষক নামক শকুনগুলো কিছুটা হলেও ভয় পেত এদেশের আইনকে।

প্রধানমন্ত্রীর উচিত এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। এই দেশ আমাদের মায়ের মতো। মায়ের বুকে কোনো মেয়েকে অপমান করা হলে এ দেশমাতাকে অপমান করা হয়, দেশের প্রত্যেক নারীকে অপমান করা হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই দেশের সব নারীর নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবেন আর ভবিষ্যতেও ভাববেন এবং যথাযথ আইন প্রয়োগের দিকটা বিবেচনা করবেন আশা করি।

তানজিনা পিয়াস : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়