অসময়ে ডেঙ্গু কেন

  সাহাদাৎ রানা ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখন ডেঙ্গুর সময় নয়, তারপরও ডেঙ্গুর খবর আসছে প্রতিদিন। এখনও অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে। ডিসেম্বরের প্রথম ৮ দিনে হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে সাড়ে ছয়শ’র বেশি।

অসময়ে ডেঙ্গুর এমন খবরে সবার মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের আতঙ্ক। আমাদের দেশে সাধারণত মে মাসকে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর মাস ধরা হয়। আর শেষ হয় জুলাই-আগস্টে। কিন্তু এবার আর এই সময়সীমা মানেনি ডেঙ্গু।

মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছিল অনেক বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, অক্টোবরের পর ডেঙ্গু আর ছড়াবে না। তবে সেই তথ্য ভুল প্রমাণ করে আবারও ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর আসছে।

বলা যায় এবার সারা বছরেই ডেঙ্গুর রোগী দেখা যাচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে একশ’র বেশি রোগী মারা গেছে। এ বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বাংলাদেশের ইতিহাসেও সর্বাধিক।

এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান বাহক। সাধারণত তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি অতি বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় এ মশা। বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননও বেড়ে যায় এ সময়ে।

কিন্তু বর্তমানে শীতের সময় তাপমাত্রা কম, বৃষ্টিও নেই, তারপরও কেন এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে তা ভাবনার বিষয়। এমন অসময়ে ডেঙ্গুর খবরের অর্থ হল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। আমরা শহরের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো দখল-দূষণে জর্জরিত করে তুলছি।

কিছু খাল রয়েছে যেগুলো একেকটি যেন মশা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। এসব জলাধার পরিষ্কার করার বিষয়ে কেউ খুব একটা উদ্যোগী নয়। তাই অসময়ে ডেঙ্গুর সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। যদি পরিকল্পিত নগরায়ণ, নগরের জলাধার রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা রোধ ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া যায়, তাহলে অনেকাংশে কমে যাবে এসব সমস্যা।

অসময়ে ডেঙ্গু বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি কারণ হল কার্বন নিঃসরণ। কাজেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হলে সবুজের বিকল্প নেই। ব্যাপক বনায়নই পারে প্রকৃতির বৈরিতা থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে প্রকৃতিকে বন্ধু করে তুলতে পারাটাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন আমাদের চারপাশকে সবুজে শ্যামল করে তোলা।

পাশাপাশি কর্তৃপক্ষেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী দুই সিটি কর্পোরেশন। গত এক বছরে মশা নিধনের ক্ষেত্রে তারা কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। অথচ এক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

লোক দেখানো সামান্য কিছু ওষুধ ছিটানো হয়েছে সত্য; কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই সিটি কর্পোরেশনকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে এবং তা দ্রুত। কারণ ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ। পাশাপাশি এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।

এক্ষেত্রে অবশ্য সাধারণ মানুষেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতায় সম্ভব ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা। যদি কেউ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি রোগীকে বেশি করে পানি পান করতে হবে। আর রোগী বা আত্মীয়-স্বজনদের এক্ষেত্রে আতঙ্কিত হলে চলবে না। সাহস নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে ডেঙ্গুকে।

সাহাদাৎ রানা : সাংবাদিক

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত