স্মরণ: বিপ্লবী বীর মাস্টারদা সূর্যসেন

  দেওয়ান সামছুর রহমান ১২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সূর্যসেন

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনে বাঙালি তরুণরা ইংরেজ প্রশাসনকে সবচেয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। অসংখ্য বাঙালি তরুণ মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে সশস্ত্র আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের অন্যতম ছিলেন বিপ্লবী বীর মাস্টারদা সূর্যসেন।

মাস্টারদার জন্ম ২২ মে ১৮৯৪ সালে। তার বাবার নাম রাজমণি সেন এবং মায়ের নাম শশীবালা। সূর্যসেন চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সূর্যসেনরা ছিলেন দুই ভাই, চার বোন। সূর্যসেনের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় তার বড় কাকা গৌরমণি সেন তাকে পিতার মতো আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেন।

১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। ১৯০ বছর ব্রিটিশ বাহিনী এ দেশকে শাসন ও শোষণ করার পর ১৯৪৭ সালে বিতাড়িত হয়। তবে তাদের এ দেশ থেকে বিতাড়ন অত সহজ ছিল না। এর জন্য অনেক প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এ দেশকে। সূর্যসেন ছিলেন এমন হাজারও বীর সেনার অন্যতম। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে পথ দেখিয়েছিলেন সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সাহসী যোদ্ধারা, ইতিহাসে তা ছিল একটি বিরল ঘটনা। কলেজজীবনেই তিনি বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি শিক্ষক হিসেবে উমাতারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে যোগ দেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতায় এসেছিলেন মূলত তরুণ শিক্ষার্থীদের বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশপ্রেম জাগ্রত করার মাধ্যমে ব্রিটিশদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করতে। তখন থেকেই তিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ‘যুগান্তর’ নামে একটি বিপ্লবী সংগঠনের তিনি ছিলেন সক্রিয় সদস্য। ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে অনেকবার তাকে জেল খাটতে হয়েছে। তবে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ছাড়াও পেয়ে গেছেন বারবার।

১৯২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাস্টারদার সহধর্মিণী পুষ্পকুন্তলা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময়ে মাস্টারদা ছিলেন জেলে। কয়েক দিনের জন্য তাকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে দেয়া হয়। তার উপস্থিতিতেই পুষ্পকুন্তলা মারা যান। ১৯৩০ সালের যে রাতে চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার লুট করা হয়, সেই রাতে অস্ত্রাগারের মাঠে জাতীয় পতাকা তোলা হয়। এ সময় এ বিদ্রোহের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্যসেন ওই পতাকার তলে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সূর্যসেনের আরেক সহযোদ্ধা ছিলেন বিপ্লবীকন্যা প্রীতিলতা। সূর্যসেন ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান সৈনিক। ইংরেজরা তাকে কারাগারে বন্দি রেখে বিচার কাজ চালায়। ১৯৩৩ সালে বিচারের রায় হয়। রায়ে সূর্যসেনকে ফাঁসির নির্দেশ দেয়া হয়। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি এ রায় কার্যকর করা হয়। জেলখানায় তাকে চরম নির্যাতন করা হয় এবং ফাঁসির পর তার মৃতদেহ বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়। বিপ্লবী বীর মাস্টারদা সূর্যসেন স্বাধীনচেতা এ দেশের জনগণের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

দেওয়ান সামছুর রহমান : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×