এক নক্ষত্রের বিদায়

  আবুল কাসেম হায়দার ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পপতি ফিরোজ আলম। ফাইল ছবি
শিল্পপতি ফিরোজ আলম। ফাইল ছবি

ব্যবসা জগতের এক নক্ষত্রের বিদায় হল ৫ অক্টোবর ২০১৯ দিল্লির এক হাসপাতালে। আমাদের সব প্রেরণার উৎস, ইয়ুথ গ্র“পের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফিরোজ আলমের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত।

মাত্র ৬৫ বছর বয়সে ফিরোজ আমাদের ছেড়ে পরকালে চলে যাবে তা ভাবতে বড়ই কষ্ট হয়। মানুষ মরণশীল, সবাইকে একদিন চলে যেতে হয়। তারপরও কারও কারও মৃত্যু হৃদয়কে চূর্ণ করে দেয়।

ফিরোজ আলম আমার দীর্ঘ ৩৫ বছরের ব্যবসায়িক সহকর্মী। মনে পড়ে, ১৯৮৪ সালে এক সন্ধ্যায় সে আমার কল্যাণপুরের বাসায় হঠাৎ গিয়ে হাজির। অনেক বছর পর তার সঙ্গে দেখা। স্কুলজীবনে যখন আমি পূর্ব সন্দ্বীপ হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তখন সেই স্কুলে ফিরোজ ও মঞ্জু সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৬৯ সালে আমি দক্ষিণ সন্দ্বীপ হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করি। তাই দীর্ঘদিন দেখা হয়নি।

আমার বাসায় কিছুক্ষণ বসার পর ফিরোজ কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলল, ‘আপনার দুটি ছবি দিন। আমরা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি করব। আপনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’

আমি বললাম, আমার তো গার্মেন্ট করার মতো এত টাকা নেই। ফিরোজ বলল, টাকা লাগবে না। শুধু ছবি দিন। আমি আর বেশি কথা না বলে দুই কপি ছবি ফিরোজকে দিলাম। বেশ কয়েকদিন পর আমি ফিরোজের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী এয়ারপোর্ট রোডে গেলাম, যেখানে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি করার জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবকাঠামো তৈরির কাজ চলেছে।

ফিরোজ বলল, প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করতে দিয়েছি। আমরা চারজন- ফিরোজ আলম, রেজ্জাকুল হায়দার মঞ্জু, মোস্তানছের বিল্লাহ আর আমি।

যাকে প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে দিলেন তিনি প্রোফাইল তৈরির কোনো অর্থ না নিয়ে ফিরোজকে বললেন, হায়দার ভাই থাকায় আমি কোনো অর্থ নেব না। আমার প্রতি এ সম্মান দেখানোর কারণে ফিরোজের মনে আমার প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস জন্মাল।

যথারীতি প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করে আমরা ঋণের জন্য ইসলামী ব্যাংক লোকাল অফিসে জমা দিলাম। দ্রুত আমাদের প্রজেক্ট অনুমোদন করল কর্তৃপক্ষ।

আমরা ব্যাংক ঋণ লাভের পর এলসি করার উদ্যোগ নিলাম। তখন আমরা চারজন অতি কষ্টে মাত্র ৫ লাখ টাকা মূলধন জোগাড় করে ইয়ুথ গার্মেন্টস লি. নামে কোম্পানি গঠন করে ১৯৮৪ সালে ব্যবসা শুরু করলাম। আমি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ফিরোজ ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মোস্তানছের বিল্লাহ ও রেজ্জাকুল হায়দার মঞ্জু ডিরেক্টর।

ফিরোজ সব সময় নতুন নতুন প্রজেক্ট করার চিন্তা করত। ১৯৯০ সাল থেকে আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একটার পর একটা ফ্যাক্টরি করে আমরা এগিয়ে যেতে থাকি।

দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও লিভার রোগে অসুস্থ থাকলেও ফিরোজ কখনও কাউকে বলত না সে অসুস্থ। ২০১৯ সালে জুনে তার বাল্যবন্ধু রেজ্জাকুল হায়দার মঞ্জুর কাছে অসুখের কথা বলে। মঞ্জু ব্যবস্থা গ্রহণে দ্রুত এগিয়ে আসে। লন্ডন, সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন সময়ে ফিরোজ চিকিৎসা গ্রহণ করে। কিন্তু লিভারের শেষ চিকিৎসা লন্ডন বা সিঙ্গাপুরে নেয়ার সুযোগ না পেয়ে ভারতের দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ফিরোজ ছিল অসম্ভব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী ও সাহসী পুরুষ। আমাদের বিশ্বাস ছিল সে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ পাবে। কিন্তু আল্লাহর বিধান যা হওয়ার তাই হল। ফিরোজ আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

আবুল কাসেম হায়দার : ব্যবসায়ী; সাবেক সহসভাপতি, এফবিসিসিআই

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×