নির্বাচনী প্রচারণা: আচরণবিধি মেনে চলতে হবে
jugantor
নির্বাচনী প্রচারণা: আচরণবিধি মেনে চলতে হবে

  সম্পাদকীয়  

১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ক্রমেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তোলা হচ্ছে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও হুমকির অভিযোগ করেছেন একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- রঙিন পোস্টার ছাপানো, যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, প্রার্থীদের অফিস ভাংচুর ইত্যাদি। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক দ্বারা যেমন, তেমনি এসব দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের দ্বারাও। তবে তুলনামূলকভাবে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকেই অভিযোগ উঠছে বেশি।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে অনেক বিষয়েই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব। এটা ঠিক, নির্বাচনী আচরণবিধি টু দ্য পয়েন্ট রক্ষা করার কাজটি সহজ নয়। বিশেষত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অতি উৎসাহীরা ছোটখাটো নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে থাকেন।

তারা হয়তো আচরণবিধি পড়েও দেখেন না। ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রচারেরও প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের একটাই চাওয়া- নির্বাচন যাতে সমসুযোগের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এমনিতেই বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ভূমিকা নিতে পারছেন না।

এরপর যদি সরকারের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেই নির্বাচন একতরফা হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে তাই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি।

আমাদের কথা হল, আচরণবিধি লঙ্ঘন যারাই করুক, নির্বাচন কমিশন যেন অভিযোগকারীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তা দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখতে হবে যে কোনো উপায়ে। এ ব্যাপারে প্রার্থীদের এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বও কম নয়।

বস্তুত নির্বাচনী প্রচারণা নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য ভোটকেন্দ্রে প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা উচিত।

শুধু তাই নয়, ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেননি। কোথাও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে, কোথাওবা কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এবার তেমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ইসির জন্য আস্থা ফেরানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

আর সে জন্য এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্বাচনের সব পক্ষই আশ্বস্ত হতে পারে যে, নির্বাচনটি সুষ্ঠু হতে যাচ্ছে। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও বজায় রাখতে হবে শতভাগ স্বচ্ছতা।

নির্বাচনী প্রচারণা: আচরণবিধি মেনে চলতে হবে

 সম্পাদকীয় 
১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ক্রমেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তোলা হচ্ছে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও হুমকির অভিযোগ করেছেন একাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- রঙিন পোস্টার ছাপানো, যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, প্রার্থীদের অফিস ভাংচুর ইত্যাদি। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক দ্বারা যেমন, তেমনি এসব দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের দ্বারাও। তবে তুলনামূলকভাবে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকেই অভিযোগ উঠছে বেশি।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে অনেক বিষয়েই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব। এটা ঠিক, নির্বাচনী আচরণবিধি টু দ্য পয়েন্ট রক্ষা করার কাজটি সহজ নয়। বিশেষত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অতি উৎসাহীরা ছোটখাটো নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে থাকেন।

তারা হয়তো আচরণবিধি পড়েও দেখেন না। ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রচারেরও প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের একটাই চাওয়া- নির্বাচন যাতে সমসুযোগের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এমনিতেই বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মামলায় অভিযুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ভূমিকা নিতে পারছেন না।

এরপর যদি সরকারের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সেই নির্বাচন একতরফা হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে তাই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে নির্বাচনী প্রচারণার আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি।

আমাদের কথা হল, আচরণবিধি লঙ্ঘন যারাই করুক, নির্বাচন কমিশন যেন অভিযোগকারীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তা দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়। নির্বাচনী প্রচারণা শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখতে হবে যে কোনো উপায়ে। এ ব্যাপারে প্রার্থীদের এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বও কম নয়।

বস্তুত নির্বাচনী প্রচারণা নির্বাচন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য ভোটকেন্দ্রে প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা উচিত।

শুধু তাই নয়, ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেননি। কোথাও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে, কোথাওবা কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এবার তেমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ইসির জন্য আস্থা ফেরানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

আর সে জন্য এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্বাচনের সব পক্ষই আশ্বস্ত হতে পারে যে, নির্বাচনটি সুষ্ঠু হতে যাচ্ছে। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও বজায় রাখতে হবে শতভাগ স্বচ্ছতা।

 

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০