জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছেই, সীমিত আয়ের মানুষের কী হবে?

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

জীবনযাত্রার ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া গত কয়েক বছরে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেভাবে আয় বৃদ্ধি পায়নি। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যায়ের মানুষকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতাসহ সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের দুর্ভোগ কতটা বেড়েছে গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত সীমিত আয়ের মানুষ।

বস্তুত বাড়ি ভাড়া ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে বর্তমানে অনেক সীমিত আয়ের মানুষের অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে তারা জরুরি প্রয়োজনেও সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না।

ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যাদের আয় বাড়েনি তাদের জীবনযাত্রার মান কমেছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছেন। যাদের সঞ্চয় নেই তারা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে দিশেহারা হচ্ছেন। বতর্মানে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় কী করে পরিবারের খরচ মেটানো হবে, এটাই সীমিত আয়ের মানুষের প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়বে।

অর্থাৎ আগামীতে কোনো কারণে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে অনেক মানুষের জীবনমান আরেক দফা কমবে। কাজেই যখন তখন নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্থির না হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না বাড়ে সে জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিশেষ করে বিভিন্ন পণ্যের দাম যাতে অসহনীয় পর্যায়ে না যায় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে ভোক্তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমন অবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এটা ঠিক, অতীতের তুলনায় বর্তমানে নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃত মজুরি কতটা বেড়েছে তা বিবেচনায় নিতে হবে। অর্থাৎ যে হারে তাদের আয় বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম তার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

মোটকথা, সব শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যমান সব বাধা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে যথাসময়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) উল্লেখিত লক্ষ্য অর্জনে নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।