জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ ব্যয়

ক্যাবের সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া হোক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যায়
ফাইল ছবি

সদ্য বিদায় নেয়া ২০১৭ সালে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়েছে। ২০১৪ সালের পর গত বছর রাজধানীর দুই কোটির বেশি মানুষকে পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে হয়েছে। এতে করে আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগে ২০১৩ সালে জীবনযাত্রার মান বেড়েছিল ১১ শতাংশ, ২০১৪ সালে এটি বেড়েছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। ভোক্তাদের স্বার্থ দেখাশোনা করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ তথ্য। এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশব্যাপী অতি দরিদ্র, দরিদ্র, নিন্ম ও মধ্যম আয়ের ১২ কোটির বেশি মানুষকে তীব্র ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

ক্যাব প্রতি বছর ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় ২২টি দ্রব্য ও ১৪টি সেবার মূল্য বিশ্লেষণ করে ব্যয়বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান পর্যালোচনা করে থাকে। তবে এ পর্যালোচনা করতে গিয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের প্রকৃত ব্যয় হিসাবের মধ্যে আনেনি বেসরকারি সংস্থাটি। অত্যাবশ্যকীয় এ তিন খাতের ব্যয় যোগ করলে জীবনযাত্রার ব্যয় যে আরও অনেক বাড়ত, তা বলাই বাহুল্য। জীবনমানে বেশি প্রভাব ফেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এমন ১২ থেকে ১৫টি পণ্যের দাম স্বল্প আয়ের ও দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি উইং বা ডিভিশন খোলার সুপারিশ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। আমরা মনে করি, তাদের এ সুপারিশ আন্তরিকভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের দেশে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে দৃশ্যত কোনো কারণ লাগে না। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তাদের জিম্মি করে নিজেদের আখের গোছাতে, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সরকারকেও বেকায়দায় ফেলতে কাজ করে থাকে। শুল্ক তুলে নেয়া ও বিভিন্ন দেশ থেকে দেদারসে আমদানির পরও চালের দাম না কমা এবং নতুন পেঁয়াজ ওঠার মৌসুমেও দেশি পেঁয়াজ, এমনকি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া থেকে যাওয়া তারই প্রমাণ বলা যায়। পণ্য ও সেবাভেদে চালের দাম ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ, দেশি পেঁয়াজের দাম ৪০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, সবজির দাম ২৪ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং আবাসিক গ্যাসের দাম ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এগুলোর প্রভাবে ভোগ্য থেকে শুরু করে গৃহস্থালি- সব পণ্যেরই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে কঠিন।

পণ্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় এমন একটি বিষয় যা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ করে তোলে। সরকার বিষয়টিতে যে গা করে না, তার কারণ সম্ভবত মানুষ মেনে নিয়েছে এই নিয়তি। দ্রব্যমূল্যের চাপে মানুষ যাতে আরও বেশি চিড়েচ্যাপটা না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাড়তি মুনাফা লুটতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর দেয়ার বিকল্প নেই। নতুন বছর দ্রব্যমূল্য কমে আসবে এবং অপরিহার্য সব পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে- এটাই প্রত্যাশা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.