আবারও পাথর শ্রমিকের মৃত্যু

কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে কবে?

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাথর শ্রমিকের মৃত্যু
পাথর শ্রমিক: ফাইল ফটো

অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে সিলেটে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক। এ অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়ার কারণ, পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনার পরপর আবারও শুরু হয় পাথর উত্তোলন। এ প্রেক্ষাপটে অভিযান পরিচালনাকারীদের আন্তরিকতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বুধবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- সিলেটের জাফলংয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় নারীসহ চার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার যে কোয়ারিতে দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত হয়েছেন, তার মালিক ইতিপূর্বে কোয়ারিতে দুর্ঘটনার কারণে শ্রমিক নিহত হওয়ায় আগে থেকেই ছিলেন হত্যা মামলার আসামি। প্রশ্ন হল, হত্যা মামলার আসামির কোয়ারিতে মালিক অনুপস্থিত থাকলেও ওই কোয়ারিতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হয় কী করে? এতে এটাই স্পষ্ট, অপরাধী উপস্থিত না থাকলেও এ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার মানুষের অভাব নেই। কাজেই সিলেটের অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে অপরাধীদের যারা পৃষ্ঠপোষক তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

অভিযোগ রয়েছে, কোয়ারিতে অভিযান পরিচালনার আগেই অপরাধীরা গা ঢাকা দেয়। তাই অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। প্রশ্ন হল, অভিযান পরিচালনার আগেই যদি অপরাধীরা খবর পেয়ে যায়, তাহলে অভিযান পরিচালনার অর্থ কী? তাহলে কি শর্ষের ভেতরেই রয়েছে ভূত? এই ভূত তাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলেও অপরাধীদের তৎপরতা কমছে না মোটেই। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পাথর উত্তোলনের কাজ নির্বিঘœ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়। প্রশ্ন হল, এসব কি দেখার কেউ নেই? বস্তুত স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইশারাতেই চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলন। লোকদেখানো অভিযানের বদলে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেই প্রকৃতি বিধ্বংসী পাথর উত্তোলনের কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে। অবৈধ পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যেহেতু পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তাই এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter