মুজিববর্ষ ও পর্যটনের বিকাশ

  মো. জিয়াউল হক হাওলাদার ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্যটন স্পট। ছবি: সংগৃহীত

২০২০ সাল হল বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর। এ উপলক্ষে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ এবং তার দর্শন বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার একটি দারুণ সুযোগ বাঙালি পেয়েছে। উন্নয়শীল দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরা এবং পর্যটন শিল্পের প্রচার ও বিপণনে বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমাটিক পরিচিতি ও ইমেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেক পর্যটক বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়রের জন্মস্থান অবলোকনের জন্য ইংল্যান্ডের স্ট্রেটফোর্ড ভ্রমণ করেন। অনেকে নেলসন ম্যান্ডেলার বাসভবন এবং রাজনৈতিক স্মৃতি দেখার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। একইভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তার রাজনৈতিক দর্শনের ওপর বিভিন্ন ভাষায় তথ্যচিত্র তৈরি করে বিভিন্ন দেশে প্রচার করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়ে ইতিমধ্যেই অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী স্যার ফ্রাঙ্ক পিটার্স বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরি ও প্রচার এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের সুপারিশ করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান, প্রাথমিক জীবন, ছাত্রজীবন, রাজনৈতিক কর্মজীবন, কারাগারের জীবন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের জন্য পর্যটন আকর্ষণ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী এসব বিষয় ব্যাপকভাবে চিত্রিত ও প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব।

তার ওপর বিভিন্ন প্রকাশনা ও ভিডিওগ্রাফি বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রচার করা উচিত। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিভাগ এ বিষয়ে একযোগে কাজ করতে পারে।

ইউনেস্কো ইতিমধ্যে ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে মনোনীত করেছে। বঙ্গবন্ধুর বীরত্বপূর্ণ বক্তৃতা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এখনও আমাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা।

বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষদের অনুপ্রাণিত করার জন্য এ ভাষণ ব্যাপকভাবে দেশে-বিদেশে প্রচার করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মজীবনের তথ্যও পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে।

এ দেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। পর্যটন বিকাশের জন্য রাষ্ট্রপতি আদেশ (পিও) নং-১৪৩ বলে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে এত বেশি ভালোবাসতেন যে তিনি এ দেশকে সুইজারল্যান্ডের মতো করে সাজাতে চেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের পর্যটনকে যথাযথ রূপে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচিতে কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বহুভাষিক প্রকাশনা এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর বই, ব্রুশিয়ার, লিফলেট বিতরণ এবং তার কর্মজীবন সম্পর্কে তথ্যাদি বিতরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু এবং তার রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে নির্মিত তথ্যচিত্র ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা উচিত। আইসিটি মন্ত্রণালয়কে এ দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তার রাজনৈতিক দর্শনের ওপর ঢাকায় একটি স্থাপত্য নিদর্শন স্থাপন করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছড়িয়ে দেয়া বাংলাদেশের সব নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। এ উদ্যোগ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে এবং দেশে আরও বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে।

মো. জিয়াউল হক হাওলাদার : পর্যটন বিশেষজ্ঞ

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত