সমাজের অদৃশ্য বাধা পেরোতে হবে

  মো. আখতার হোসেন আজাদ ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সকালে এক নারী সহপাঠীর ফোনে ঘুম ভাঙল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, ‘দোস্ত আজ আমার বিয়ের দিন ঠিক করতে আসবে। কিন্তু আমি তো এখন বিয়ে করতে চাই না। মা বলছে, অনার্স শেষ করলি। অনেক বড় হয়ে গেছিস। সমাজে লোকেরা নানা কথা বলছে, সমাজ নিয়েই আমাদের চলতে হবে।’

এটি আমাদের সমাজের একটি বাস্তব চিত্র। এরিস্টটলের সেই বিখ্যাত উক্তি- ‘মানুষ সামাজিক জীব’- নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ট্যাবু প্রচলিত আছে। অবস্থা এমন যে, সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথার বাইরে কেউ কোনো কাজ করলেই যেন সে সমাজের বাইরে চলে গেল! কেউ সামনে এগিয়ে যেতে চাইলেই কথিত সামাজিকতার অদৃশ্য বাধায় তার পথচলা থমকে দাঁড়ায়। একজন ক্ষুদে নারী ফুটবলার যখন স্কুলের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে, কথিত সমাজের সম্মানিত(!) লোকেরা তাকে উৎসাহ প্রদান তো দূরের কথা, বরং নানা কটূক্তির বিষবাষ্প ছড়ায় এবং সেই সঙ্গে পরিবারকে যত্রতত্র হেনস্তা করে।

বছরখানেক পর যখন সেই ক্ষুদে ফুটবলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সাফল্য নিয়ে আসে তখন সেই মানুষেরাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে নিজেদের গ্রামের কৃতী সন্তান হিসেবে গর্ব করে। একইভাবে একজন নারী রাজনীতিক, অভিনেত্রীসহ প্রত্যেককেই কথিত সামাজিকতার নামে অদৃশ্য বাধা পেরিয়ে বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে হয়। কথিত কূটবাক্যের ভয়ে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিয়ের পর যদি কোনো নারী পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চায়, তাতেও ঘটে সমাজের বিপত্তি। এভাবেই আমাদের সমাজে নারীর অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্নাতক সম্পন্ন করা কোনো যুবক যদি গ্রামে গিয়ে উদ্যোক্তা হতে চায়, তবে সেখানেও তাকে সমাজের অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ভার্সিটিতে ভালোভাবে পড়ালেখা করেনি, তাই কোনো চাকরি না পেয়ে গ্রামে এসে ব্যবসা শুরু করেছে- এমন কথার বিষাক্ত তীর সর্বদা নিক্ষিপ্ত হয় মানুষের মুখ থেকে। সমাজের মানুষদের কটূক্তির ফলে পরিবার থেকেও তাতে সমর্থন মেলে না। অথচ একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যদি কৃষিকাজ করে, গ্রামে খামার গড়ে তোলে, কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত করে, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ কৃষকের চেয়ে অধিক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

একজন দর্জি যেমন কাপড় কেটে আবার সেলাই করে সুন্দর সুন্দর পোশাক তৈরি করে, তেমনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে আমাদের সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে ফেলতে হবে। কবি কামিনী রায়ের বিখ্যাত কবিতা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ সবসময় স্মরণে রেখে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের।

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল বলেছেন, পৃথিবীকে যেমন পেয়েছো, তার চেয়ে ভালো রেখে যেতে চেষ্টা করো। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘খোকার সাধ’ কবিতার একটি বিখ্যাত লাইন হল- ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে, তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে।’ নতুন ভোর ডেকে আনার জন্য কে কী বলবে, তা না ভেবে নিজ নিজ লক্ষ্যপানে আমাদের ছুটে চলতে হবে। তবেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

মো. আখতার হোসেন আজাদ : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত