ভোট উৎসব ও জনগণের অংশগ্রহণ

  মিঠুন দে ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি উৎসবমুখর জাতি। প্রতিটি উৎসব-মহোৎসবে বাঙালি হয়ে ওঠে মাতোয়ারা। দেশে এ মুহূর্তে চলছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী উৎসব। প্রতিটি উৎসব তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন তাতে সব ধরনের লোকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

বিগত কিছুকাল ধরে নানা কারণে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা মানুষের মনে পর্যাপ্ত আনন্দ দানে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর এখন গুরুদায়িত্ব বর্তেছে কীভাবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সবার অংশগ্রহণে সার্বিকভাবে সফল হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ভোটার এ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ। আর এর সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলগুলো বলতে শুরু করেছে, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট জালিয়াতি করার সুযোগ রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বোঝানো যে, পৃথিবীতে সবকিছুর যেমন আধুনিকায়ন হয়েছে তেমনি ভোটদান পদ্ধতিরও আধুনিকায়ন দরকার।

অনাদিকাল ধরে সনাতন সিল দেয়া পদ্ধতিতে ভোটদানের রীতি চলতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সব সেক্টরে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। তাই ভোটদান পদ্ধতির ক্ষেত্রেও আর এনালগ তথা সিল দেয়া পদ্ধতি চলতে পারে না। আনতে হবে ডিজিটাল ইভিএম পদ্ধতি।

তবে হ্যাঁ, এই নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে যদি জনমনে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে তার উত্তর জেনে নেয়া প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের কর্তব্য। আর এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেই এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে এ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সহজভাবে তুলে ধরতে হবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া। কীভাবে একজন ভোটার তার ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করবে, স্লিপ গ্রহণ করার পর কোন পদ্ধতিতে ফিংগার প্রিন্ট মেলানো সাপেক্ষে বাটন প্রেস করবে।

জনমনে আরেকটি প্রশ্ন রয়েছে- যাদের ফিংগার প্রিন্ট মিলবে না তারা কীভাবে ভোট প্রদান করবে? এ বিষয়গুলো জনগণ ভালোভাবে বুঝতে এবং রপ্ত করতে পারলে ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে জনমনের সংশয় দূর হবে এবং বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ হালে পানি পাবে না।

এ তো গেল ভোটকেন্দ্রের ভেতরের দিক। কেন্দ্রের বাইরের দিকগুলোকেও সুন্দরভাবে ম্যানেজ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কোনো পক্ষ যেন অন্যায়ভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করতে না পারে, ভোটারদের ভোটদানে বাধা দিতে না পারে। ভোটারদের মনে যেন বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, এটাই প্রত্যাশা।

মিঠুন দে : প্রাবন্ধিক

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত