শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি

এসএমসি-জিবির জবাবদিহিতা থাকতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যাপকভাবে জেঁকে বসেছে।

শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত বেসরকারি স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) ও গভর্নিং বডি (জিবি) পরিচালনার বিধিমালায় সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়ায় তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেন না।

এমনকি নিজেদের হীন স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বললেও অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি, চাকরিচ্যুত করা এবং বিভিন্ন নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করার মতো ঘটনা ঘটানো হয় অহরহ। অন্যদিকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক বা অন্য শিক্ষকরা পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে অনিয়ম-দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়।

বিপরীতে পরীক্ষার ফি ও বিভিন্ন আয়ের টাকা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আড়ালে দুর্নীতি করা হয় পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে। এসব কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিঘ্নিত হলেও তার পরোয়া করা হয় না। আমরা মনে করি, এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি বৈ উপকার যেহেতু হয় না, সেহেতু কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে বিদ্যমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত।

আগে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটিতে পরিবর্তন আসত। বর্তমানে অনেকদিন একই সরকার ক্ষমতায় থাকায় ক্ষমতাসীন দলপন্থী বিভিন্ন গ্রুপ অলাভজনক এসব পদকে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়ার হাতিয়ার করার জন্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিচালনা কমিটিগুলোর আর্থিক দিকেই বেশি নজর থাকে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ তারা তেমন দেখে না। এমনকি অনেক কমিটির প্রধান ও অনেক সদস্যের তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতাও থাকে না। ফলে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর কল্যাণের বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝেনও না। শিক্ষকদেরও যথাযথ সম্মান দিতে জানেন না। এমন কমিটিপ্রধান ও মেম্বারদের সঙ্গে শিক্ষকদের কাজ করা অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে পড়ে। এ ধরনের লোকরা শিক্ষার্থী হয়রানিকারী ও নিপীড়নকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, এমন নজিরও কম নেই।

কমিটির সদস্যরা আসলে কী করছেন, তা জানার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট- ২০১৩ সালে চৌদ্দগ্রামের রানীরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত ও সাতজন আহত হন। এসব কারণে জিবি ও এসএমসির আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষাবিদ। আমরা মনে করি, সার্বিক বিবেচনায় শিক্ষিত মানুষদের কমিটিতে আনা, কমিটির দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি; এমনকি আদৌ এমন কমিটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

একটা সময় ছিল যখন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের পুরো বেতন না দিয়ে অর্ধেক দিত সরকার; কিন্তু এখন পুরো বেতনই সরকারি কোষাগার থেকে যায়। তারপরও কমিটির দৌরাত্ম্যের কাছে মাঠ প্রশাসন তো বটেই, খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অসহায় হয়ে থাকতে হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কী হয়, নিপীড়ন-অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কাঙ্ক্ষিত কাজ হয় কিনা, ভর্তি, পরীক্ষা ও অন্যান্য ফি’র অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয় এগুলো দেখার সময় এসেছে। শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কেউ কমিটিতে না এলে যে এগুলো করা যাবে না, তা বলাই বাহুল্য।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৮৩,৫৩৬১,৪৬,৩৯৬৩২,১৩৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×