নবনির্বাচিত দুই মেয়র: প্রতিশ্রুতি পূরণের শুরু হোক এখনই
jugantor
নবনির্বাচিত দুই মেয়র: প্রতিশ্রুতি পূরণের শুরু হোক এখনই
প্রতিশ্রুতি পূরণের শুরু হোক এখনই

   

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই সপ্তাহ হতে চলল। ডিএসসিসিতে শেখ ফজলে নূর তাপস আর ডিএনসিসিতে মো. আতিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করতে তাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এ সময়ে তারা নির্বাচনী ইশতেহারে ও মৌখিকভাবে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে পূরণ করবেন, সে পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে নিজেদের হোমওয়ার্ক, সমস্যা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে তার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ, সমস্যাসংকুল এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমে ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।

তারা নতুন দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে মানুষের সমস্যা সমাধানে নজির সৃষ্টি করা যায়, তা গুছিয়ে নিতে পারেন। কারণ লিখিত ইশতেহার তো বটেই, মেয়রদ্বয়ের মৌখিক প্রতিশ্রুতিও ভোটাররা ভুলবেন না। ফলে তারা আগাম কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছেন এবং মেয়রদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন।

দুই সিটির মধ্যে ডিএনসিসির মেয়র প্রধানত সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার তিনটি প্রধান প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ৩৮টি কর্মসূচির মাধ্যমে সেসব বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন। এর মধ্যে উন্নত বিশ্বের মতো বছরজুড়ে মশক নিধন র্কমসূচি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারীদের জন্য নিরাপদ শহর, দখল-দূষণ মুক্তি, সুপেয় পানি ইত্যাদির কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ডিএসসিসির মেয়রের প্রধান প্রতিশ্রুতি বসবাসযোগ্য সচল ঢাকা গড়তে ঘোষিত পাঁচসালা কর্মসূচির বাস্তবায়ন। তিনি ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।

৩৬৫ দিন, সপ্তাহের ৭ দিন ও ২৪ ঘণ্টা সেবাদানের প্রতিশ্রুতি ছিল তার। মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বসে না থেকে নিজেদের কর্মযজ্ঞের নিদর্শন দেখাবেন বলে ভোটাররা যেমন প্রত্যাশা করেন, তেমনি বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, বসে না থেকে এখন থেকেই তাদের কাজে নামা উচিত।

বস্তুত, নগরবাসী কী চান সেটা মেয়রদের অজানা নয়। বিশুদ্ধ খাবার পানি, মশক নিধন, যানজট কমানো এবং নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করার বাইরে মেয়রদের কাছে মানুষের খুব একটা প্রত্যাশা থাকে না।

একটু আন্তরিক হলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা কঠিন কিছু নয়। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মানসিকতা থাকতে হবে তাদের। সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বর ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমানো মেয়রদের প্রধান দায়িত্ব। এটি সমাধানের প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছেনও।

আমরা আশা করব, নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি মেয়ররা মনে রাখবেন, তারা দায়িত্বে এসেছেন কম ভোটারের সমর্থন নিয়ে। এখন কাজের মাধ্যমে সবার মন জয় করতে হবে।

ভালো কাজের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জেতার নজির তৈরি করেছে ভারতের দিল্লির আঞ্চলিক সরকার। আমাদের নবনির্বাচিত মেয়ররা সরকারি দলের হওয়ায় তাদের কাছে প্রত্যাশা আরও বেশি। ভোটার ও জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন মেয়ররা এবং তার নিদর্শন দেখা যাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই- এটাই কাম্য।

নবনির্বাচিত দুই মেয়র: প্রতিশ্রুতি পূরণের শুরু হোক এখনই

প্রতিশ্রুতি পূরণের শুরু হোক এখনই
  
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই সপ্তাহ হতে চলল। ডিএসসিসিতে শেখ ফজলে নূর তাপস আর ডিএনসিসিতে মো. আতিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করতে তাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

এ সময়ে তারা নির্বাচনী ইশতেহারে ও মৌখিকভাবে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে পূরণ করবেন, সে পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে নিজেদের হোমওয়ার্ক, সমস্যা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে তার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ, সমস্যাসংকুল এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমে ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।

তারা নতুন দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে মানুষের সমস্যা সমাধানে নজির সৃষ্টি করা যায়, তা গুছিয়ে নিতে পারেন। কারণ লিখিত ইশতেহার তো বটেই, মেয়রদ্বয়ের মৌখিক প্রতিশ্রুতিও ভোটাররা ভুলবেন না। ফলে তারা আগাম কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছেন এবং মেয়রদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন।

দুই সিটির মধ্যে ডিএনসিসির মেয়র প্রধানত সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার তিনটি প্রধান প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ৩৮টি কর্মসূচির মাধ্যমে সেসব বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন। এর মধ্যে উন্নত বিশ্বের মতো বছরজুড়ে মশক নিধন র্কমসূচি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারীদের জন্য নিরাপদ শহর, দখল-দূষণ মুক্তি, সুপেয় পানি ইত্যাদির কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ডিএসসিসির মেয়রের প্রধান প্রতিশ্রুতি বসবাসযোগ্য সচল ঢাকা গড়তে ঘোষিত পাঁচসালা কর্মসূচির বাস্তবায়ন। তিনি ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।

৩৬৫ দিন, সপ্তাহের ৭ দিন ও ২৪ ঘণ্টা সেবাদানের প্রতিশ্রুতি ছিল তার। মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বসে না থেকে নিজেদের কর্মযজ্ঞের নিদর্শন দেখাবেন বলে ভোটাররা যেমন প্রত্যাশা করেন, তেমনি বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, বসে না থেকে এখন থেকেই তাদের কাজে নামা উচিত।

বস্তুত, নগরবাসী কী চান সেটা মেয়রদের অজানা নয়। বিশুদ্ধ খাবার পানি, মশক নিধন, যানজট কমানো এবং নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করার বাইরে মেয়রদের কাছে মানুষের খুব একটা প্রত্যাশা থাকে না।

একটু আন্তরিক হলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা কঠিন কিছু নয়। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মানসিকতা থাকতে হবে তাদের। সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুজ্বর ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমানো মেয়রদের প্রধান দায়িত্ব। এটি সমাধানের প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছেনও।

আমরা আশা করব, নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি মেয়ররা মনে রাখবেন, তারা দায়িত্বে এসেছেন কম ভোটারের সমর্থন নিয়ে। এখন কাজের মাধ্যমে সবার মন জয় করতে হবে।

ভালো কাজের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জেতার নজির তৈরি করেছে ভারতের দিল্লির আঞ্চলিক সরকার। আমাদের নবনির্বাচিত মেয়ররা সরকারি দলের হওয়ায় তাদের কাছে প্রত্যাশা আরও বেশি। ভোটার ও জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন মেয়ররা এবং তার নিদর্শন দেখা যাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই- এটাই কাম্য।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন-২০২০

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০