কৃষিবিদ দিবস: উন্নয়নে কৃষিবিদদের অবদান

  মো. বশিরুল ইসলাম ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কৃষিবিদ

আজ কৃষিবিদ দিবসে দেশের উন্নয়নে কৃষিবিদদের অবদানের কথা তুলে ধরতে চাই। আমরা জানি, ডাক্তারি একটি মহৎ পেশা। মাথাব্যথা থেকে শুরু করে যে কোনো অসুখ-বিসুখে আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই। তারা অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলেন। তেমনি ভেটেরিনারি চিকিৎসকও অসুস্থ পশুকে সুস্থ করে তোলেন।

একজন কৃষিবিজ্ঞানী কৃষির উৎকর্ষের জন্য গবেষণা করেন, গবেষণা করে উদ্ভাবন করেন নতুন প্রযুক্তি, আর সে প্রযুক্তি মাঠে সম্প্রসারণও করেন কৃষিবিদরা। বস্তুত, কৃষিবিদদের হাতেই সৃষ্টি হচ্ছে ফসলের নতুন জাত কিংবা ফসল উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি।

শুধু ফসল কেন, ফসলের পাশাপাশি গবাদিপশুর উন্নয়ন, দুধের মান ও পরিমাণ বাড়ানো, মাংসের জন্য উন্নত জাতের পশুপালন প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের মাছের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষি খামারের বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিকীকরণ- এসবই কৃষিবিদদের হাতের স্পর্শে প্রাণ পায়। উজ্জীবিত হয় সংশ্লিষ্ট সবাই। এভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় এ দেশের মেরুদণ্ডখ্যাত কৃষকের অর্থনৈতিক অবকাঠামো।

সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার সুবাদে কৃষিবিদরা এ দেশে আজ এক মর্যাদাবান পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃত। কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে দেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগামী।

ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। মাছ ও ছাগল উৎপাদনেও বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আমে সপ্তম, আলুতে অষ্টম এবং ফলে দশম। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, বিশ্বে যে পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হয় তার ৮৬ শতাংশই হয় আমাদের দেশে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন একটি উদাহরণ।

এসব সম্ভব হয়েছে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ৮৮টি ইনব্রিড ও ৬টি হাইব্রিড উচ্চফলনশীল আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।

পরমাণু শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের মোট ১০৮টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে এবং দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলছে।

এছাড়াও সাফল্যের সঙ্গে উদ্ভাবন করেছে শিম, ডাল ও তেলজাতীয় ৮টি ফসলের জন্য জীবাণু সার, যা মাটির গুণাগুণ রক্ষাসহ ডাল ও তেলজাতীয় ফসল বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দেশের জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৫৪৫টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ৫০৫টি ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তিসহ মোট ১০৫০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফলের দশ হাজারের অধিক কৌলি সম্পদ (জার্মপ্লাজম) জিন ব্যাংকের মাধ্যমে সংরক্ষণ করছে। পাটজাতীয় ফসলের ৪৫টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশি পাট ২৪টি, তোষা পাট ১৫টি, কেনাফ ৪টি ও মেস্তা ২টি।

ওই ৪৫টি জাতের মধ্যে বর্তমানে ৯টি দেশি, ৬টি তোষা, ৩টি কেনাফ এবং ২টি মেস্তা জাতের বীজ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ও আবাদ হচ্ছে। এছাড়া সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট এ পর্যন্ত ৪৬টি জাত অবমুক্ত করেছে। এর বাইরে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো গবেষণা করে বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে।

সরকারের ডিমওয়ালা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জাটকা নিধন নিষিদ্ধকরণের নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে এখন ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। চিংড়ি রফতানি থেকে প্রতি বছর আমাদের আয় ক্রমাগত বাড়ছে।

এছাড়া পুষ্টির অন্যান্য উপাদান ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদনও বেড়েছে। এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের জনপ্রতি প্রাপ্যতা। এ ধারা অব্যাহত থাকুক, এগিয়ে যাক আমাদের কৃষি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বাংলাদেশ খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশে পরিণত হোক- কৃষিবিদ দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মো. বশিরুল ইসলাম : জনসংযোগ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×