মশার ওষুধ মিক্সিং: অতীত থেকে শিক্ষা নিন

  সম্পাদকীয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মশার ওষুধ
মশার ওষুধ। ফাইল ছবি

ভেজাল ওষুধ সরবরাহের দায়ে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মশার ওষুধ মিক্সিংয়ের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি উদ্বেগজনক তো বটেই; একই সঙ্গে হতাশাজনকও। উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি ডিএসসিসি এক দরপত্রে উড়ন্ত মশা মারতে ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন ওষুধ মিক্সিংয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ‘দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্ট’ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জানা গেছে, দরপত্র মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং যে কোনো সময় ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হতে পারে।

প্রশ্ন হল, সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়াই কি কার্যাদেশ পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা? এর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অন্যসব বিষয় কি আমলে নেয়ার প্রয়োজন নেই?

ভুলে গেলে চলবে না, দেড় দশক আগে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে মশার ওষুধ সরবরাহকরী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকৃত ওষুধের মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ কমে দরপত্র জমা দিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছিল উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালে তাদের সরবরাহ করা ওষুধের মান পরীক্ষা করা হলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। আশ্চর্যজনক হল, ডিএনসিসি কালো তালিকাভুক্ত করলেও প্রতিষ্ঠানটি ডিএসসিসিতে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর পরীক্ষার প্রতিবেদনও আমলে নেয়নি ডিএসসিসি।

আশ্চর্যজনক হল, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, ডিএনসিসি কালো তালিকাভুক্ত করলেও ডিএসসিসি কখনও এ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেনি; তাই আমরা ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবে দরপত্রে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারি না। কী অদ্ভুত কথা! খারাপের আবার উত্তর-দক্ষিণ কী? খারাপ সব ক্ষেত্রেই খারাপ- এ সহজ কথাটা ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বুঝতে না পারার কথা নয়। দুঃখজনক হল, সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়রকেও গত বছর কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ক্রমাগত সাফাই গাইতে দেখা গিয়েছিল।

এর ফল কী হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি। রাজধানীসহ দেশের অন্তত ৬২ জেলায় ব্যাপক হারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছিল। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল অসংখ্য মানুষকে। মৃত্যুও হয় অনেকের। যদি সঠিক ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার রোধের ব্যবস্থা করা যেত, তাহলে পরিস্থিতি নিশ্চয়ই এমন ভয়াবহ হয়ে উঠত না।

বস্তুত বিগত ১৮ বছরে মশার ওষুধ নিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির যে ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে, গত বছর সাধারণ মানুষকে জীবন দিয়ে তার দায় শোধ করতে হয়েছে। সবচেয়ে ভালো হতো, গত বছরের ‘ডেঙ্গু বিভীষিকা’-কে গুরুত্ব দিয়ে ডিএনসিসি যদি মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগের অভিযোগে ‘দ্য লিমিট এগ্রো প্রডাক্টকে’ আজীবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাত। অথচ দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মশা নিধনে শতভাগ কার্যকর ওষুধ আমদানির পাশাপাশি যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে মশার ওষুধ মিক্সিংয়ের কার্যাদেশ দেবে- এটাই কাম্য।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৮৩,৫৩৬১,৪৬,৩৯৬৩২,১৩৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×