র‌্যাগিং বন্ধ হোক

  মো. শফিকুল ইসলাম ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাগিং

বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তো বটেই, এই বিদ্যায়তনিক পরিবেশের বাইরেও র‌্যাগিং একটি পরিচিত শব্দ। এটি নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে চলেছে। তাদের পরিবারের জন্যও বিষয়টি আতঙ্কের। সিনিয়র শিক্ষার্থী কর্তৃক নবীন শিক্ষার্থীদের নানাভাবে অত্যাচার ও হেনস্তা করার নাম র‌্যাগিং। গালিগালাজ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এমনকি তাদের পিতা-মাতা ও নিজ জেলা নিয়েও নানাভাবে হয়রানি করা হয় এ প্রক্রিয়ায়।

যেমন, সিনিয়র আপুকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিতে বাধ্য করা, শীতের রাতে খালি গায়ে ১ মাইল হেঁটে আসা, আপত্তিকর বিষয়ে অভিনয় করে দেখানো ইত্যাদি। আমি ২০০৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হই। তখন আমার এক সহপাঠীকে বড় ভাইয়েরা ম্যাচের কাঠি দিয়ে রুম মাপতে বলে এবং অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে তার পা ভেঙে ফেলতে উদ্যত হয়।

র‌্যাগিং আগে হতো শুধু ছাত্রদের মধ্যে, বর্তমানে ছাত্রীরাও আক্রান্ত। সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্ইু নবীন শিক্ষার্থী সিনিয়র ছাত্রছাত্রী কর্তৃক র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে। ছাত্রটি মানসিকভাবে দু-একদিন কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিল। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয় এবং গণমাধ্যম র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে খুবই তৎপর ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড ওই তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানায়। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার ভিডিও ভাইরাল হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তপূর্বক দু’জনকে শাস্তির আওতায় আনে।

২০১৮ সালে শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’জন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের নামে অর্ধনগ্ন করে শৌচাগারে সেলফি তুলতে বাধ্য করা হয়। বহিষ্কার হয় পাঁচ শিক্ষার্থী। একই বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী এতই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল যে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল, এমনকি স্বজনদের চিনতে পারছিল না।

র‌্যাগিংয়ের নামে অত্যাচার কমবেশি সব বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রচলিত আছে। র‌্যাগিংয়ের শাস্তির বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। এমনকি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন র‌্যাগিংয়ের বিচার করতে পারে না বিভিন্ন সংগঠনের চাপে বা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির কারণে।

সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে একটি অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি গঠন করার নিয়ম করা হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে ছাত্র উপদেষ্টা সদস্য সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টদের সদস্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। র‌্যাগিং বিষয়ে হাইকোর্টের এ নির্দেশনা প্রশংসার দাবিদার। আমার বিনীত অনুরোধ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

র‌্যাগিং নিয়ে সংসদে পাসকৃত সুষ্ঠু আইন থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষকরা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মো. শফিকুল ইসলাম : সভাপতি, শিক্ষক সমিতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪২৪ ৩৩ ২৭
বিশ্ব ১৬,০৪,৫৩৫ ৩,৫৬,৬৬০ ৯৫,৭৩৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত