মফস্বলেও বইমেলা চাই
jugantor
মফস্বলেও বইমেলা চাই

  প্লাবন শুভ  

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী একটি মফস্বল এলাকা। যেহেতু ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে বহু আলোচিত কয়লাখনি, পাথরখনি ও স্বপ্নপুরী, সেহেতু বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে অনেকেই আসেন খনিসহ বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী একটি মফস্বল এলাকা। যেহেতু ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে বহু আলোচিত কয়লাখনি, পাথরখনি ও স্বপ্নপুরী, সেহেতু বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে অনেকেই আসেন খনিসহ বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে।

মফস্বল এলাকাগুলোয় বই উৎসব কিংবা বইমেলা খুব একটা নজরে পড়ে না। বই পড়াকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

প্রথমে অনেকে অবাক হন এ ধরনের বইমেলার কথা শুনে। বইমেলা, তা-ও আবার ফুলবাড়ীর মতো উপজেলায়? বহু প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় সহযোগিতা দেয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন।

এ বইমেলা উদ্বোধনের পর থেকেই বইপিপাসু বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। মেলায় দেশি-বিদেশি লেখকদের দশ হাজার বই ছিল। মফস্বল এলাকায় দশ হাজার বইয়ের আয়োজন!

জীবনকে আলোকিত করতে সহযোগিতা করে বই। বই আমাদের মাঝে জ্ঞান সৃষ্টি করে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে করে প্রসারিত, বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আগ্রহী ও কৌতূহলী করে তোলে, নতুন চিন্তা-চেতনার বীজ বপণ করে আলোর পথ দেখায়।

আমাদের সক্ষম ও যোগ্যতর করে তোলে। বই পড়ার মাধ্যমে মেধা ও মনন শাণিত হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় বই। বই আছে বলেই জ্ঞান-বিজ্ঞান এত বিকশিত হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস। এ মাসে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজন করা হয় বইমেলার। মাসজুড়েই বইপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত থাকে মেলা চত্বর। এ মেলাকে কেন্দ্র করে লেখক-পাঠক-প্রকাশকরা অধির আগ্রহে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয় বছরের সর্বাধিকসংখ্যক বই।

বইমেলায় গিয়ে পাঠক যেমন তার পছন্দের বইটি খুঁজে নিতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন লেখকও তার প্রকাশিত বইটি সম্পর্কে সরাসরি পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানতে পারেন। ভাষার মাসে বইমেলার আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সবার সামর্থ্য থাকে না, ঢাকা কিংবা বড় বড় শহরে বইমেলায় যাওয়ার এবং পছন্দের বই কেনার। তাই আমি মনে করি, ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারিভাবে প্রতিটি মফস্বল এলাকায় এ ধরনের বইমেলার আয়োজন করা প্রয়োজন।

এতে করে মফস্বল এলাকার মানুষের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা দৃঢ় হবে। লেখকরা আগ্রহ পাবে লেখায়। প্রত্যেককে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে হলে, নতুন পাঠক সৃষ্টি করতে হলে বইমেলার বিকল্প নেই। আশা করি, প্রতিটি মফস্বল এলাকায় বইমেলার উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হবে।

বইমেলা পারে মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলতে। সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে। আলোকিত মানুষ গড়ে সমাজের অপকর্মগুলো রোধ করতে। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে।

প্লাবন শুভ : শিক্ষার্থী, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর

[email protected]

মফস্বলেও বইমেলা চাই

 প্লাবন শুভ 
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী একটি মফস্বল এলাকা। যেহেতু ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে বহু আলোচিত কয়লাখনি, পাথরখনি ও স্বপ্নপুরী, সেহেতু বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে অনেকেই আসেন খনিসহ বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে।
ছবি: যুগান্তর

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী একটি মফস্বল এলাকা। যেহেতু ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে বহু আলোচিত কয়লাখনি, পাথরখনি ও স্বপ্নপুরী, সেহেতু বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে অনেকেই আসেন খনিসহ বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে।

মফস্বল এলাকাগুলোয় বই উৎসব কিংবা বইমেলা খুব একটা নজরে পড়ে না। বই পড়াকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

প্রথমে অনেকে অবাক হন এ ধরনের বইমেলার কথা শুনে। বইমেলা, তা-ও আবার ফুলবাড়ীর মতো উপজেলায়? বহু প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় সহযোগিতা দেয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন।

এ বইমেলা উদ্বোধনের পর থেকেই বইপিপাসু বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। মেলায় দেশি-বিদেশি লেখকদের দশ হাজার বই ছিল। মফস্বল এলাকায় দশ হাজার বইয়ের আয়োজন!

জীবনকে আলোকিত করতে সহযোগিতা করে বই। বই আমাদের মাঝে জ্ঞান সৃষ্টি করে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে করে প্রসারিত, বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আগ্রহী ও কৌতূহলী করে তোলে, নতুন চিন্তা-চেতনার বীজ বপণ করে আলোর পথ দেখায়।

আমাদের সক্ষম ও যোগ্যতর করে তোলে। বই পড়ার মাধ্যমে মেধা ও মনন শাণিত হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায় বই। বই আছে বলেই জ্ঞান-বিজ্ঞান এত বিকশিত হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস। এ মাসে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজন করা হয় বইমেলার। মাসজুড়েই বইপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত থাকে মেলা চত্বর। এ মেলাকে কেন্দ্র করে লেখক-পাঠক-প্রকাশকরা অধির আগ্রহে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয় বছরের সর্বাধিকসংখ্যক বই।

বইমেলায় গিয়ে পাঠক যেমন তার পছন্দের বইটি খুঁজে নিতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন লেখকও তার প্রকাশিত বইটি সম্পর্কে সরাসরি পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানতে পারেন। ভাষার মাসে বইমেলার আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সবার সামর্থ্য থাকে না, ঢাকা কিংবা বড় বড় শহরে বইমেলায় যাওয়ার এবং পছন্দের বই কেনার। তাই আমি মনে করি, ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারিভাবে প্রতিটি মফস্বল এলাকায় এ ধরনের বইমেলার আয়োজন করা প্রয়োজন।

এতে করে মফস্বল এলাকার মানুষের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা দৃঢ় হবে। লেখকরা আগ্রহ পাবে লেখায়। প্রত্যেককে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে হলে, নতুন পাঠক সৃষ্টি করতে হলে বইমেলার বিকল্প নেই। আশা করি, প্রতিটি মফস্বল এলাকায় বইমেলার উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হবে।

বইমেলা পারে মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলতে। সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে। আলোকিত মানুষ গড়ে সমাজের অপকর্মগুলো রোধ করতে। ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে।

প্লাবন শুভ : শিক্ষার্থী, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর

[email protected]

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০২০