দুই ভাইয়ের ‘টাকার গোডাউন’: দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে
jugantor
দুই ভাইয়ের ‘টাকার গোডাউন’: দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার দুই ভাই এনু ও রুপনের বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তাদের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে সর্বশেষ মঙ্গলবার ২৭ কোটি টাকা, ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআর, এক কেজি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। এ যেন ‘টাকার গোডাউন’!

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে চক্ষু চড়কগাছ সবার। এসব অর্থ যে অবৈধভাবে অর্জিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উদ্ধার করা অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

আমরা মনে করি, এর পাশাপাশি এনু-রুপনের নামে-বেনামে থাকা অন্যান্য অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা উচিত। নিষিদ্ধ জুয়ার মাধ্যমে এবং অন্যান্য অবৈধ পদ্ধতিতে যারা অর্থ উপার্জনে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

এনু-রুপনের আগে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত যুবলীগ নেতা সম্রাট ও খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির সন্ধান দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে।

সর্বশেষ নরসিংদী মহিলা যুবলীগ নেত্রী পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধানলাভ দেশবাসীকে বিস্মিত না করে পারেনি। মফস্বল শহরের একজন নারী কীভাবে উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া নানা অনৈতিক কর্মের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারে, তা এক বিরাট প্রশ্ন বৈকি।

বর্তমান সরকারের ইতিবাচক দিক হল, তারা নিজ দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। যদিও গ্রেফতার ব্যক্তিরা বেশির ভাগই চুনোপুঁটি, রাঘববোয়াল নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমরা আশা করব, সরকার ক্যাসিনোকাণ্ড, মাদকবিরোধী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেবে এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটনে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি, লুটেরা, জালিয়াতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আশার কথা, সরকারপ্রধানও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। এখন প্রশাসনের সর্বস্তরেও নজর দেয়া দরকার। অন্যথায় দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা স্বপ্নই থেকে যাবে।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে আরও অনেকের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং ক্যাসিনো-দুর্নীতি-মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। কোনো কারণে যাতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ছেদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া দুর্নীতিবাজ, ক্যাসিনো-জুয়াড়িদের পাশাপাশি তাদের দোসর, সহকারী, প্রশাসনে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো দরকার।

এমনকি গ্রেফতার হওয়া জুয়াড়ি-দুর্নীতিবাজদের স্থান দখলে কারা এগিয়ে আসছে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। সমন্বিত, সর্বাত্মক ও লাগাতার কঠোর অভিযান ছাড়া দুর্নীতি-ক্যাসিনো-জুয়া-মাদকের কারবার বন্ধ হবে না।

বর্তমানে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির অগ্রগতি চলমান। আমরা পর্যায়ক্রমে মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে স্বপ্ন যারা দেখিয়েছেন তথা বর্তমান সরকারকে দুর্নীতি-অনিয়মসহ লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

দুই ভাইয়ের ‘টাকার গোডাউন’: দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার দুই ভাই এনু ও রুপনের বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

তাদের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে সর্বশেষ মঙ্গলবার ২৭ কোটি টাকা, ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআর, এক কেজি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। এ যেন ‘টাকার গোডাউন’!

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে চক্ষু চড়কগাছ সবার। এসব অর্থ যে অবৈধভাবে অর্জিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উদ্ধার করা অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

আমরা মনে করি, এর পাশাপাশি এনু-রুপনের নামে-বেনামে থাকা অন্যান্য অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা উচিত। নিষিদ্ধ জুয়ার মাধ্যমে এবং অন্যান্য অবৈধ পদ্ধতিতে যারা অর্থ উপার্জনে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

এনু-রুপনের আগে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত যুবলীগ নেতা সম্রাট ও খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির সন্ধান দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে।

সর্বশেষ নরসিংদী মহিলা যুবলীগ নেত্রী পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধানলাভ দেশবাসীকে বিস্মিত না করে পারেনি। মফস্বল শহরের একজন নারী কীভাবে উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া নানা অনৈতিক কর্মের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে পারে, তা এক বিরাট প্রশ্ন বৈকি।

বর্তমান সরকারের ইতিবাচক দিক হল, তারা নিজ দলের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। যদিও গ্রেফতার ব্যক্তিরা বেশির ভাগই চুনোপুঁটি, রাঘববোয়াল নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমরা আশা করব, সরকার ক্যাসিনোকাণ্ড, মাদকবিরোধী ও অন্যান্য ক্ষেত্রের দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেবে এবং দুর্নীতির মূলোৎপাটনে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি, লুটেরা, জালিয়াতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আশার কথা, সরকারপ্রধানও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। এখন প্রশাসনের সর্বস্তরেও নজর দেয়া দরকার। অন্যথায় দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা স্বপ্নই থেকে যাবে।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে আরও অনেকের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা এবং ক্যাসিনো-দুর্নীতি-মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। কোনো কারণে যাতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ছেদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া দুর্নীতিবাজ, ক্যাসিনো-জুয়াড়িদের পাশাপাশি তাদের দোসর, সহকারী, প্রশাসনে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো দরকার।

এমনকি গ্রেফতার হওয়া জুয়াড়ি-দুর্নীতিবাজদের স্থান দখলে কারা এগিয়ে আসছে, সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। সমন্বিত, সর্বাত্মক ও লাগাতার কঠোর অভিযান ছাড়া দুর্নীতি-ক্যাসিনো-জুয়া-মাদকের কারবার বন্ধ হবে না।

বর্তমানে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির অগ্রগতি চলমান। আমরা পর্যায়ক্রমে মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে স্বপ্ন যারা দেখিয়েছেন তথা বর্তমান সরকারকে দুর্নীতি-অনিয়মসহ লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে যে কোনো উপায়ে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান