এডিপিতে করোনার প্রভাব

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে

  সম্পাদকীয় ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অতীতে বিভিন্ন সময় লক্ষ করা গেছে, নানা কারণে বছরের প্রথম কয়েক মাস এডিপি বাস্তবায়নের গতি থাকে হতাশাজনক। এটা যেন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও একই ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে।

গতকালের যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত আট মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাকি চার মাসে সংশোধিত এডিপির প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। অল্প সময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয় করার ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এর মধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সমগ্র বিশ্বের আমদানি-রফতানি একের পর এক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছে। যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন আমদানিকৃত যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন উপকরণের ওপর নির্ভরশীল, সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সৃষ্ট জটিলতার অবসান কীভাবে হবে, এটা এক প্রশ্ন।

দেশের যেসব প্রকল্পে বিদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সেসব প্রকল্পে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আগামী কিছুদিন বিভিন্ন প্রকল্পে কাক্সিক্ষত গতি আনা সম্ভব হবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর সীমিত সময়ের মধ্যে যাতে বেশি কাজ করা যায়, আগে থেকেই তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে কোনো ঠিকাদার যাতে যেনতেন প্রকারে কাজ শেষ না করেন সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি দুর্নীতি করার চেষ্টা করে কিনা সেদিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।

দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কোনো কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি, অদক্ষতা ও দুর্নীতির দৃষ্টান্ত কম নয়। সঠিক তদারকির মাধ্যমে কাজের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মও রোধ করতে হবে। জানা গেছে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত হতাশাজনক।

এসব মন্ত্রণালয়ের কাজের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আশা করব, সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এডিপি বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে সক্ষম হবেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত