সবার কথাই ভাবতে হবে

  আবু আফজাল সালেহ ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার বিস্তার রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সবচেয়ে মোক্ষম পদক্ষেপ হচ্ছে, ‘সামাজিক দূরত্ব’ সৃষ্টি। এজন্য সরকার ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকারি-বেসরকারি সব দফতরের জন্য।

২৪ মার্চ থেকে জেলা ও বিভাগীয় দফতরে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। ‘সামাজিক দূরত্ব’ ঠিক রাখতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। এসব ভালো সিদ্ধান্ত।

করোনা দুর্যোগের সময় কয়েকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ খুব কষ্টে থাকবে। এদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের বেশিরভাগ মানুষ অপ্রচলিত সেবা খাত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক পেশার সঙ্গে যুক্ত। এদের অনেকেই কাজ করে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে।

অনেকে রিকশা চালায়, কেউ বাসাবাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে, কেউ বাদাম, শরবত, ঝালমুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করে। এসব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা ভাবতে হবে। অন্যথায় আয়ের পথ হারিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে কেউ কেউ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক হিসাবমতে, দেশে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং ১০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি গার্মেন্ট শিল্পের ক্রয়াদেশ কমতে শুরু করেছে।

দেশব্যাপী করোনা আতঙ্কে মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এসব মানুষ যেন সুলভ মূল্যে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করতে পারে সে ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। মানসিকভাবে দৃঢ় হতে হবে এবং যথাসম্ভব বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। দুর্যোগের এ সময়ে আমাদের মানবিক বোধও জাগ্রত করতে হবে। আমাদের ওপর নির্ভরশীল কোনো গ্রুপ যেন অস্থির না হয়ে যায়।

সমাজের ‘নিম্নবিত্ত-বিত্তহীনের আকুতি’ আমাদের অনুধাবন করতে হবে। প্রথমেই আসবে তাদের আর্থিক ব্যাপারটা। প্রথমত, তাদের বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এছাড়া অন্য আর্থিক সুবিধাগুলোও দিতে হবে, সেটা সরকারি বা ব্যক্তিপর্যায়ে যাই হোক। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত লোকজন নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

শিশুরা এ সময় খুব কষ্টে থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের নিয়মিত চলাচল বা কর্মকাণ্ডে ছেদ পড়েছে। আমরা এখনও সামগ্রিক লকডাউনে যায়নি। তবে করোনা সতর্কতায় বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না অনেকেই। বিশেষ করে বাচ্চারা।

অনেক আগেই তাদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, সাবধানতা বজায় রাখতে মা-বাবা তাদের বাড়ির বাইরে বেরও করছেন না। স্কুল বন্ধ, আঁকার ক্লাস, সুইমিং, গিটার বা নাচের ক্লাস সবই বন্ধ। পার্কে গিয়ে খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎও বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে থাকতে অনেক শিশু-কিশোরই হাঁপিয়ে উঠতে শুরু করেছে। বাইরে যাওয়ার জেদ তৈরি হচ্ছে অনেকের মধ্যে।

এসব নিয়েও ভাবতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এসব লাঘব করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন অভিভাবকরা। হোমওয়ার্কের পাশাপাশি ভালো ভালো ভিডিও দেখানোর ব্যবস্থা যেমন হতে পারে, তেমনি শিক্ষামূলক ভিডিও/ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। করোনা নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়া যেতে পারে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করা দরকার। ঘরোয়া বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিশুদের বিষণ্ন ভাব দূর হবে।

আবু আফজাল সালেহ : প্রাবন্ধিক

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত