মানুষের অসচেতন যাত্রা: ভিড় এড়িয়ে গৃহে অবস্থান করুন

  সম্পাদকীয় ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। চিন্তার বিষয় হল, ছুটি ঘোষণার পরপরই সাধারণ মানুষ ঘরে না থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনগুলোয় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

মানুষের এ আচরণ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ না করে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যে কোনো ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম উপায় হচ্ছে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সেলফ কোয়ারেন্টিন ও হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

সবাইকে মনে রাখতে হবে, ঘরের মধ্যে থাকাটা কোনো সাজা নয়; এটি নিজের ও পরিবারের, সর্বোপরি দেশবাসীর কল্যাণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক একটি প্রচেষ্টা। কানাডায় খোদ প্রধানমন্ত্রী সপরিবারে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার পর জার্মানির চ্যান্সেলরও বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন। এগুলো আমাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে।

সরকার মূলত করোনা ঝুঁকি মোকাবেলার জন্যই সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করেছে। মনে রাখতে হবে, এ ছুটি উৎসব-আনন্দের জন্য নয়। এ ছুটিকে সাধারণ উৎসব-পার্বণের ছুটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে নিজেকে এবং পরিবারকে অথবা অন্য কাউকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া অনুচিত।

আমরা আশা করব, মানুষ গ্রামে গিয়ে যার যার বাড়িতে অবস্থান করবে। সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, আমরা যে যেখানে আছি সেখানে অবস্থান করা। করোনাভাইরাসের কার্যকর প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। প্রতিষেধক যতদিন না আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিনে পরিস্থিতি কেমন রূপ ধারণ করবে, তা জানা নেই।

সুতরাং এক্ষেত্রে প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। এ সময় কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা ভাবলে চলবে না, সমষ্টির স্বার্থে কর্তব্য নির্ধারণ ও পালন করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যেতে পারে, যা থেকে উদ্ধারের হয়তো আর কোনো উপায় থাকবে না।

করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এখন দেশবাসীর উচিত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকের চলাচলের জায়গা সীমিত করা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মকানুন কঠোরভাবে পরিপালন করা।

মনে রাখতে হবে, এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হল, আতঙ্কিত না হয়ে সদা-সর্বদা সতর্কতা অবলম্বন করা। এসব সতর্কতার মধ্যে রয়েছে- জনসমাগম এড়িয়ে চলা, বিশেষত দেশে আগত প্রবাসীদের সংস্পর্শে না আসা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ইত্যাদি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত