মানুষ মানুষের জন্য

  মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষ মানুষের জন্য

করোনাভাইরাসের কারণে যাদের কপালে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তারা হল দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

আমাদের অনেকের ঝুঁকিটা স্বাস্থ্যগত। কিন্তু তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং তার চেয়ে অনেক বেশি সংকটাপূর্ণ।

তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিটাও আমাদের থেকে বেশি। তারা থাকে অস্বাস্থ্যকর, ঘিঞ্জি ও নোংরা পরিবেশে। সেখানে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ছোট্ট একটি কামরায় অনেক মানুষ গাদাগাদি করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।

তবে করোনা মহামারীর কারণে নিম্ন আয়ের এ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, তার থেকে বেশি উৎকণ্ঠিত খাদ্য নিয়ে। তাদের একটাই কথা- ‘কাম না করলে খামু কেমনে? বউ-বাচ্চারে কী খাওয়ামু? বুড়া বাপ-মা’রে কেমনে দেখুম? আমগোরে করোনায় মরতে অইবো না। বেশিদিন এমন চললে আমরা এমনেই না খাইয়া মইরা যামুগা।’

দেশে এমন নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কত? বিশ্বব্যাংকের ‘দারিদ্র্য ও সমৃদ্ধির অংশীদার-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২ কোটি ৪১ লাখ লোক দৈনিক ৬১ টাকা ৬০ পয়সাও আয় করতে পারেন না।

৮ কোটি ৬২ লাখ লোকের দৈনিক আয় ৩ দশমিক ২ ডলার বা ২৭০ টাকার চেয়ে কম। আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৯-এর পরিসংখ্যানও এর কাছাকাছি তথ্যই দিচ্ছে। বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান (২০১৯) অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৪৬ লাখ মানুষের মধ্যে সোয়া তিন কোটি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।

বিবিএসের আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় পৌনে ২০ লাখ এমন পরিবার (ব্যক্তি নয়) রয়েছে, যাদের প্রতি মাসের গড় আয় মাত্র ৭৪৬ টাকা।

তাই আসুন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি সদয় হই। নিজেদের সাধ্যানুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াই। তাদের প্রতি একটু খেয়াল রাখি, যাতে তারা অভুক্ত না থাকে। তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা একটু কমানোর চেষ্টা করি। করোনা সম্পর্কে তাদের বুঝাই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করি। সম্ভব হলে সাবান, মাস্ক, স্যানিটাইজার, খাবার ও ওষুধ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করি।

ইতিমধ্যে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ মানবিক কাজগুলো শুরু করেছে। তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এখনও তা সীমিত ও অপ্রতুল। গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারবে না।

সমাজের উচ্চবিত্ত ও সুবিধাপ্রাপ্ত সবারই উচিত এ ভয়াবহ দুর্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশে ধনী মানুষের সংখ্যা কম নয়। বিশ্বব্যাংকের মতে অতি ধনী বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। ধনী বৃদ্ধির হারে তৃতীয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বিশাল একটি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে, যাদের ক্ষুদ্র সাহায্যও এ অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে।

মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম : প্রভাষক, লোক প্রশাসন বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×