কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ: উপযুক্ত কোম্পানিকে কাজ দেয়া হোক

  ২৮ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজার বিমানবন্দর। ফাইল ছবি

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে একে হংকং বিমানবন্দরের আদলে তৈরি করে পর্যটক-আকর্ষণ করার জন্য দুই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এটি অবশ্যই আমাদের পর্যটন খাতের জন্য সুখবর।

কারণ, সম্প্রসারিত হতে যাওয়া ১৭শ’ ফুট রানওয়ের মধ্যে ১৩শ’ ফুট রানওয়েই থাকবে সাগরের পানির মধ্যে। এতে করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত হয়েও পর্যটক টানতে না পারার ব্যর্থতা কিছুটা হলেও কমবে। প্রকল্পের উদ্যোগটি মহৎ হওয়ায় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে বেশিরভাগ রানওয়ে নির্মাণ করতে হবে বিধায় কাজটি অনেক জটিল, হাতেগোনা কিছু কোম্পানির অভিজ্ঞতা আছে এ ধরনের রানওয়ে তৈরির।

ফলে দরপত্র গ্রহণের শুরু থেকেই সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার বিকল্প নেই। কিন্তু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট টেন্ডার ওপেনিং কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ- দরপত্রে অংশ নেয়া ১০টি বিদেশি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানি দরপত্রের ২৪.১ ধারা মোতাবেক আর্থিক প্রস্তাব জমা না দিলেও তাদের দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী এটি সরাসরি বাতিল হওয়ার কথা।

জানা যায়, দরপত্রে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোকে শর্তানুযায়ী, একটি প্যাকেটে প্রযুক্তি প্রস্তাব ও আরেকটি প্যাকেটে আর্থিক প্রস্তাব দেয়ার কথা। কিন্তু পাওয়ার কন্সট্রাকশন কর্পোরেশন অব চায়না দুটি প্যাকেটেই প্রযুক্তিগত প্রস্তাব দাখিল করে। এ প্রস্তাবটি বাতিল না করে টেন্ডার ওপেনিং কমিটি উপস্থিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সেটি সংশোধন করিয়ে জমা নেয়। অথচ নিয়মানুযায়ী, খোলার পর দরপত্রে কোনো কাটাছেঁড়া করা যায় না। কোম্পানিটি বলছে, ভুলে দুটি প্যাকেটের ওপরই প্রযুক্তিগত প্রস্তাব লেখা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে একটি আর্থিক ও একটি প্রযুক্তিগত প্রস্তাবের প্যাকেট। এ অবস্থায় কোনটি কিসের প্যাকেট তা নিশ্চিত হতে গেলে গোপনীয় দর প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তো ছিলই।

ইতিপূর্বে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাদের কাজ দেয়া হবে তাদের ভুল-ত্রুটি ও অযোগ্যতা বিবেচনায় নেয়া হয় না। এক ধরনের গোপন সমঝোতা ও দুর্নীতির কারণে এগুলো করা হয়, যার ফলে জনগণের অর্থের অপচয় হয় এবং প্রকল্পের কাজ মানসম্মত হয় না। কাজের প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমাদের পর্যটন খাতের অন্যতম আকর্ষণ তৈরি করতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটির সবকিছু ত্রুটি-বিচ্যুতিমুক্ত হোক শুরু থেকেই। প্রশ্নবোধক কোনো কোম্পানিকে কাজ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত