করোনায় বেকারত্বের ঝুঁকি: অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে

  ২৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশজুড়ে এক ধরনের লকডাউন চলছে। প্রায় সবকিছু বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

এমনকি গৃহকর্মী, ভিক্ষুক ও দিনমজুরদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই তাদের ভোগান্তি বাড়বে। এমনকি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনেকেই আবার কাজ ফিরে পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মানুষের চাকরি চলে যাওয়ার খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে এবং কর্ম হারানো মানুষের এ সারি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এ অবস্থায় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিশেষ তহবিল গঠন ও নগদ অর্থ সহায়তার ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন অর্থনীতিবিদরা। আমরা মনে করি, আপৎকালীন হিসেবে এমন উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাও নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে সামগ্রিক অর্থনীতিকেই বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে। কারণ আমাদের শ্রমশক্তির বেশির ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এবং এ কারণে তারা শ্রম অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

বস্তুত অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা শ্রমশক্তির কোনো নিয়োগপত্র থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। ফলে অধিকার লাভের কোনো বৈধ ডকুমেন্ট তাদের থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হতে হবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এসব শ্রমিককে। কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়তে হবে প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীকে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরই মধ্যে তারা কাজ হারিয়েছেন ধরে নিতে হবে। এ অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অন্যথায় পরিস্থিতি খারাপ হবে এবং সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ১ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার মহিলা এবং ৩ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার পুরুষ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে শহর ও গ্রামকেন্দ্রিক তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিভাগওয়ারি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। সরকার এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে বিভাগ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নিতে পারে।

পাশাপাশি যেসব মালিকের আওতায় অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক কাজ করেন, সেসব মালিককেও এগিয়ে আসতে হবে শ্রমিকের সুরক্ষায়। মানবিক বিবেচনা থেকেই এ শ্রমিকদের কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত। কারণ দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলোর সফলতার পেছনে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অবদান কম নয়।

দুর্যোগ ও মহামারী ইত্যাদিতে যারা বেশি বিপদে পড়েন তারা হলেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিযুক্ত শ্রমিক। বিপদে, দুর্যোগে মানুষকে রক্ষায় তাদেরই এগিয়ে আসার নজির বেশি। এমনকি বর্তমানে সরকার ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করে না দিলে প্রয়োজনে এ মানুষদেরই দেখা যেত অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসতে।

অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের সময় খেটে খাওয়া মানুষ, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক ও প্রান্তিক কর্মীদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। সরকারের বিশেষ তহবিল ও নগদ সহায়তা ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসতে হবে সহায়তার হাত নিয়ে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত