করোনা চিকিৎসাসেবায় বিশৃঙ্খলা

দ্রুত প্রতিকারের পদক্ষেপ নিন

  ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করার অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে এ সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ডাক্তার-রোগীর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।

জানা গেছে, হাসপাতালের বেশিরভাগ ডাক্তার ও নার্স রোগীর কাছে যান না; উপরন্তু তেমন খোঁজখবরও নেন না। এছাড়া রোগীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়া হয় না; এমনকি নিজের থালা-বাসন নিজেই পরিষ্কার করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা একটি হাসপাতালের এমন চিত্র অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসকরা কেন রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রতিকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

যদি তাদের নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এর বাইরে অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তারও সমাধান করতে হবে; কোনো অবস্থাতেই রোগীদের সুচিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা কিংবা উদাসীনতা প্রদর্শন করা ঠিক হবে না।

উদ্বেগজনক হল, কেবল রাজধানীতেই নয়; চট্টগ্রাম ও রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে।

চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ নিয়েও নানা অসঙ্গতি লক্ষ করা যাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে (আইপিএই) করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হলেও সেখানে বিরাজ করছে নানা অসঙ্গতি। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত টেকনোলজিস্টদের স্যাম্পল কালেকশনে পাঠানো হচ্ছে কোনোরকম সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই।

দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের ‘পিপিই’ সরবরাহ না করা গেলেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের আমলা ও কর্মচারীরা ‘পিপিই’ পরে অফিস করছেন। কেউ কেউ ফেসবুকে ছবিও পোস্ট করছেন। যারা স্যাম্পল কালেকশন ও ল্যাব পরীক্ষা সম্পন্ন করবে, তাদের অবশ্যই সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে- এ ব্যাপারে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই।

‘পিপিই’ ডাক্তার ও ল্যাব টেকনোলজিস্টদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ- এটি ভুলে গেলে চলবে না। সবচেয়ে বড় কথা, ‘পিপিই’ কোনো ফ্যাশনেবল পোশাক নয়। এটি শুধু করোনাভাইরাস চিকিৎসা ও সেবায় জড়িতদের নিরাপত্তার জন্যই ব্যবহার করা উচিত।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ববাসী এবারই প্রথম অবাক বিস্ময় ও অসহায় দৃষ্টিতে করোনাভাইরাস সৃষ্ট দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করছে।

করোনাভাইরাসের থাবায় বর্তমানে বিশ্বসভ্যতা এক চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে এবং এ পরিস্থিতি থেকে মানবজাতির উত্তরণ ঘটবে কীভাবে, তা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

তবে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয় হল, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত যথেষ্ট গলদ রয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের কার্যকর প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।

প্রতিষেধক যতদিন না আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিনে পরিস্থিতি কেমন রূপ ধারণ করবে, তা জানা নেই। এ বাস্তবতা সামনে রেখে চিকিৎসাসেবায় বিরাজমান বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত