করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা

সরকারি ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিন

  ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস শনাক্তে যত বেশি পরীক্ষা করা হবে ততই মঙ্গল। কারণ, এ মহামারী থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখার মাধ্যমে তার থেকে অন্যদের মধ্যে রোগটি না ছড়ানোর ব্যবস্থা করা।

এ কারণে দৈনিক অন্তত ১০ হাজার সন্দেহভাজন ভাইরাসধারীর নমুনা পরীক্ষা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা ঘুরপাক খাচ্ছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ বা সর্বোচ্চ ৭ হাজারের মধ্যে। এর অন্যতম কারণ হল, সরকারি ল্যাবগুলো দক্ষ জনশক্তির অভাবসহ নানা কারণে সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। সরকারি ল্যাব বলতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবকে বোঝানো হচ্ছে।

অন্যদিকে বেসরকারি ল্যাব বলতে বোঝানো হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ল্যাবকে। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, নমুনা পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে সরকারি ল্যাবগুলো। সে তুলনায় বেসরকারি ল্যাবগুলোতে বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে দক্ষ জনবল ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। এটা সত্য, বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে নতুন।

ফলে তাদের দক্ষ জনশক্তি না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দ্রুত দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ এবং বিদ্যমানদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার বিকল্প নেই। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আপৎকালীন সহযোগিতা হিসেবে কাজটি করছে। তাদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে সরকারি তথা স্বাস্থ্য অধিদফতরের ল্যাবগুলোকেই সব পরীক্ষা করতে হবে।

বর্তমানে নমুনা পরীক্ষা কিছুটা বাড়ানোর ফলে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যত বেশি পরীক্ষা করা যাবে, করোনা মোকাবেলায় তত বেশি কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এজন্য নমুনা সংগ্রহকারী, পরীক্ষাকারী ও ল্যাব টেকনিশিয়ানদের দক্ষতার বিকল্প নেই। অথচ দেখা যাচ্ছে, নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে নমুনা সংগ্রহে পাঠিয়ে দেয়ার কারণে গলা ও মুখের ভেতর থেকে লালা সংগ্রহ না করেই সন্দেহভাজন আক্রান্তদের থুথু নিয়ে আসছে অনেক নমুনা সংগ্রহকারী। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষা হচ্ছে না।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দক্ষ জনশক্তি ছাড়া ভালোভাবে নমুনা সংগ্রহ ও পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব নয়। আর পরীক্ষা বাড়াতে না পারলে সংক্রমণের সঠিক চিত্রও পাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, পিসিআর ল্যাব বাড়ানো এবং দ্রুততার সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে দেশের ৩৫টি ল্যাবে রিয়েল টাইম পিসিআর পরীক্ষা চালু আছে, যাতে আট ঘণ্টায় ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়।

কিন্তু দক্ষ জনবল দিয়ে শিফট করে চালানো হলে দ্বিগুণ, তিনগুণ পরীক্ষা করা যাবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে নমুনা। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাধীন অনেক নমুনা জমা হয়ে আছে। এগুলো পরীক্ষা করা দরকার।

আমরা মনে করি, মহামারীরকালে সমন্বিতভাবে কাজ করে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। করোনাভাইরাস আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অনেক দুর্বলতা দেখিয়ে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা নিতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত