আইএমএফের প্রতিবেদন: ‘রক্ষাকবচ’ কী হবে নির্ধারণ করুন

  ১৮ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

করোনা-সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতিকেও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশাল অঙ্কের প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ খাত সচল রাখা সম্ভব হলেও বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা না করে উপায় নেই। কেননা বৈদেশিক খাতের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

বৈদেশিক খাত সচল না হলে বাংলাদেশের এককভাবে সচল হয়ে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ অবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স খাতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চলমান করোনায় বিশ্বের সার্বিক অর্থনীতি পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক বিশেষ প্রতিবেদনেও এমন মন্তব্য করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত দুটি বড় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিকশিত হচ্ছে।

এর একটি হল, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এবং অন্যটি তৈরি পোশাক রফতানি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির এ দুটি ভিত্তিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।

আমাদের অর্থনীতিতে কৃষির পরেই প্রবাসী আয় তথা রেমিটেন্সের স্থান। তাই সঙ্গত কারণেই রেমিটেন্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি আমাদের অর্থনীতির জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

ফলে শিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ অন্য জিনিসের স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া এটি মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে, যা নিু আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনে ভোগান্তি বাড়াবে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের জনশক্তি রফতানি খাত মন্দ সময় পার করছে। তারপরও প্রতিবছর দেশে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৬শ’ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আসছে।

এর মধ্যে ৫৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এ বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় করোনার কারণে বড় ধরনের মন্দা চলছে। জ্বালানি তেলের দাম কমে রেকর্ড পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশগুলোর আয় কমে গেছে। ফলে শ্রমিক ছাঁটাই ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে।

পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয়ও মন্দার কারণে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাত। জাতীয় অর্থনীতিতে এ শিল্পের অবদান বিশাল। ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এ শিল্প নারীর কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সবচেয়ে বড় কথা, এ খাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। বস্তুত, আমাদের বার্ষিক রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে।

তৈরি পোশাকের বড় বাজার আমেরিকা ও ইউরোপে এখন ব্যাপক মন্দা চলছে। ফলে ওইসব দেশে রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে। এসব আমাদের জন্য অবশ্যই দুর্ভাবনার বিষয়। বাংলাদেশের জিডিপিতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে এ দুটি খাতের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

ফলে এ দুই খাতে বিপর্যয় দেখা দিলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আক্রান্ত করবে। উল্লেখ্য, করোনার প্রভাবে ইতোমধ্যে অর্থনীতির সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

করোনাভাইরাসের থাবায় বর্তমানে বিশ্ব এক চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থনীতির দুটি বড় ভিত্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় এক্ষেত্রে আমাদের ‘রক্ষাকবচ’ কী হবে- তা নির্ধারণ করা জরুরি।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সদস্য দেশগুলোর সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রম, সামনের দিনগুলোয় অর্থনীতিতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে এবং এগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায়- আইএমএফের প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। সংকট উত্তরণে এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে সরকার করণীয় ঠিক করবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত