ঈদ উদযাপন

করোনাকাল কেটে গিয়ে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠুক দেশ

  ২৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের মধ্যে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে দেশবাসী। ঈদে প্রতি বছর যে উৎসবের আমেজ থাকে, এবার তা ছিল অনুপস্থিত। ঈদ মানে আনন্দ, অথচ করোনার কারণে সেই আনন্দই বহুলাংশে ম্লান হয়ে গেছে এবার। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হলেও বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ নামাজ পড়েছেন যার যার বাসস্থানে। স্বভাবতই এবার ঈদের নামাজ শেষে অনুসৃত হয়নি কোলাকুলির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়ের চিরায়ত রীতি। বেশিরভাগ মানুষ ঘরেই উদযাপন করেছেন ঈদ। তবে সশরীরে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হতে বা সরাসরি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও অনেকে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পর কুশল বিনিময় করেছেন, আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজখবর নিয়েছেন। বস্তুত করোনার কারণে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ উদযাপনের চিত্র ছিল প্রায় অভিন্ন। সবার জন্য এ ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।

দেশে প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে রাজধানী থেকে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি অভিমুখে যাত্রা করেন, মিলিত হয় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে। অনেক প্রবাসীও দেশে আসেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে। ঘরেফেরা মানুষের আনন্দে গ্রামগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। তবে এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বেশকিছু হতাহতের ঘটনাও ঘটে থাকে। আমরা প্রতি বছর ঈদ শেষে সেসবের ফিরিস্তি তুলে ধরি। এবার করোনার কারণে সব ধরনের গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ বাড়ি যেতে পারেননি। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নানা বিকল্প উপায়ে বাড়ি গিয়েছেন। এর ফলে সেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটলেও করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়নি। অথচ গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যই হল করোনা নিয়ন্ত্রণ করা।

দরিদ্র মানুষের জন্য এবারের ঈদ ছিল সবচেয়ে নিরানন্দের। করোনার কারণে এসব মানুষের আয়ের পথ হয়ে পড়েছে রুদ্ধ। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এছাড়া ঈদের ঠিক আগে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি না হলেও উপদ্রুত এলাকাগুলোর বহু মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে মাছের ঘের। করোনার মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত এসব মানুষের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বভাবতই ঈদ তাদের জন্য কোনো আনন্দের বার্তা নিয়ে আসেনি।

ঈদের সময়টিতে আমরা বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হারিয়েছি। তাদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমরা তাদের সবার আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাদের পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন- এ প্রত্যাশা করি। আরও প্রত্যাশা করি, শিগগিরই বিদায় নিক করোনাভাইরাস, রাজধানীসহ সারা দেশে ফিরে আসুক প্রাণচাঞ্চল্য। ভবিষ্যতে আর কখনও যেন মানুষকে এমন নিরানন্দ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে না হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত