গুরুপাপে লঘুদণ্ড!

এভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে দেশে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির শাস্তি সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন ও সর্বনিন্ম ৫ থেকে ৭ বছরের জেল ও জামিনঅযোগ্য ধারার বিধান রেখে আইন করার দাবি করে আসছেন। দেখা গেল, এই দাবি অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনের যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তাতে বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ও জানমালের ক্ষতি হলে চালকের সর্বোচ্চ মাত্র ৩ বছরের জেল অথবা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি দেয়া হবে, সে ব্যাপারে কোনো ধারা স্পষ্ট করা হয়নি। বিস্ময়ের এখানেই শেষ নয়। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে খসড়ায় ৩ বছরের শাস্তির বিধানটাও মালিক ও শ্রমিক নেতাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তারা এই স্বল্প সাজায়ও সন্তুষ্ট নন, তৎপরতা চালাচ্ছেন তা আরও কমিয়ে আনার।

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি, আন্দোলনকারীরা নয়, বরং জয়ী হতে যাচ্ছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সম্প্রদায়। বস্তুত, দেশে যে কোনো ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সংঘবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তির কাছে পরাজিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ভোক্তা শ্রেণী। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এসব অকালমৃত্যুর অধিকাংশই ঘটছে চালকের অবহেলা, অদক্ষতা ও খামখেয়ালির কারণে। আমরা আরও লক্ষ করে যাচ্ছি, সাধারণ যাত্রী অথবা পথচারীদের প্রতি চালক সম্প্রদায়ের অধিকাংশেরই নেই ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ। তাদের প্রতি শত উপদেশও বৃথা যাচ্ছে। এমনও দেখা গেছে, বেপরোয়া গতির গাড়িতে থাকা যাত্রীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে চালক তার নিজস্ব নিয়মেই গাড়ি চালান। এ অবস্থায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের একটি সংগঠন অনেকদিন থেকেই এ ব্যাপারে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। আইনের প্রস্তাবিত খসড়াটি প্রকাশের পর এ সংগঠনের চেয়ারম্যান চিত্রাভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, তাদের দাবি পূরণ হয়নি, মালিক-শ্রমিকের দাবিই পূরণ করা হয়েছে।

আমাদের কথা হল, দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে চালকের শাস্তি কী হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট বিধান নেই কেন? দ্বিতীয় কথা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির ৩ বছরের সাজা নির্ধারণ করা হলে চালকরা কি বেপরোয়া গতি অথবা খামখেয়ালিপনা থেকে নিবৃত্ত হবেন? তৃতীয় কথা, পরিবহনের মালিক ও শ্রমিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে দু’জন মন্ত্রী জড়িয়ে আছেন, তারা কি শুধু তাদেরই মন্ত্রী, নাকি সারা দেশের? তাই যদি হয়, তাহলে ১৬ কোটি মানুষের নিরাপদ জীবনের কথা না ভেবে তারা কেন শুধু মালিক-শ্রমিকের স্বার্থই দেখভাল করছেন? আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, খসড়াটিতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জন্য যে পরিমাণ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। এই সাজার পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং সেভাবেই সংশোধিত আকারে তা চূড়ান্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter