টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে সংশয়

করোনা চিকিৎসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

  ৩১ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর প্রায় তিন মাস পার হতে চলল, অথচ এই দীর্ঘ সময়েও সন্দেহভাজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহে সমন্বিত কোনো পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো গাইডলাইনও নেই। ফলে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহে একেক সংগ্রাহক একেকভাবে কাজ করছেন। একেক প্রতিষ্ঠান একেক নির্দেশনায় নমুনা সংগ্রহ করাচ্ছে। কারও লালা নেয়া হচ্ছে। কারও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে নাকের দুই ছিদ্র থেকে, আবার নেয়া হচ্ছে রক্তও। আবার কারও ক্ষেত্রে কেবল নাক থেকে নমুনা নিয়েই পরীক্ষা করা হচ্ছে, নেয়া হচ্ছে না রক্ত। ফলে একই ধরনের উপসর্গ থাকার পরও কারও রিপোর্ট আসছে করোনা পজিটিভ, তো কারও নেগেটিভ। এ কারণে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ, অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। মহামারীর চিকিৎসায় এ ধরনের সন্দেহ-অবিশ্বাস যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, মানুষকে পরীক্ষা করানো, চিকিৎসা নেয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করছে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসা দুই রোগীর একজনের নমুনা নেয়া হয় নাকের দুই ছিদ্র থেকে এবং সংগ্রহ করা হয় রক্ত; কিন্তু অপরজনের রক্ত নেয়া হয়নি। একইভাবে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস পরীক্ষার সেবা দিচ্ছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দু’জন রোগীর একজনের নাকের এক ছিদ্র থেকে এবং অপরজনের দুই ছিদ্র থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এভাবে নমুনা সংগ্রহে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ের কারণে পরীক্ষায় কেউ করোনা পজিটিভ হচ্ছেন, আবার কেউ হচ্ছেন নেগেটিভ। একই প্রতিষ্ঠানে একই উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ভিন্ন রিপোর্টের পেছনে নমুনা সংগ্রহের ভিন্ন পদ্ধতিকে সন্দেহের চোখে দেখা অস্বাভাবিক নয়। এমনকি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন সঠিক নিয়মে নমুনা সংগ্রহ না করায় পরীক্ষার রিপোর্ট উল্টাপাল্টা আসছে। আর এতে করে রোগী যে সঠিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে লকডাউন উঠে গেছে এবং সরকার সীমিত বললেও সবকিছু সীমিত না থেকে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে বাড়ছে করোনা সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। এ অবস্থায় সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তের নমুনা সংগ্রহে সমন্বিত পদ্ধতি ও গাইডলাইন, আক্রান্ত ও অনাক্রান্ত উপসর্গধারীদের চিকিৎসা পদ্ধতি কী- তা নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা দরকার। কারণ এরই মধ্যে করোনা চিকিৎসায় ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়ার হার একেকটাতে একেক রকম। নমুনা সংগ্রহের ভিন্ন পদ্ধতি ও ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসার কারণেই এমনটি হচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই।

সরকার এরই মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়েছে। যেভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ছে, তাতে এর বিকল্পও নেই। তার ওপর অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার বাস্তবতায় সবকিছু খুলে দেয়া এবং করোনার চিকিৎসা পদ্ধতি বিস্তৃত করার পর মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা এবং নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানের বিকল্প নেই। একইসঙ্গে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন কিনা, উপসর্গধারী অন্য রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে হচ্ছে- এসব বিষয় মনিটরিং করা দরকার। সরকার যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সবকিছু খুলে দিয়েছে, সেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা, তাও পর্যবেক্ষণের বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, নমুনা সংগ্রহে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করায় জনমনে সৃষ্ট সন্দেহের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেবাপ্রাপ্তির চেয়ে হয়রানির শিকারই বেশি হবেন। সত্যিকারার্থে করোনা আক্রান্ত কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একাধিক পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে রোগীকে। এ ধরনের হয়রানি রোধ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে অবিলম্বে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত