এসএসসি পরীক্ষার ফল

পাসের হারের পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিও কাম্য

  সম্পাদকীয় ০২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষিত হয়েছে। গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ এবার গড় পাসের হার কিছুটা বেড়েছে। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। উল্লেখ্য, এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ফেব্রুয়ারিতে।

পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ। সে হিসাবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের কথা ছিল। করোনার কারণে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানানো হয়নি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট, ঢাকা বোর্ডের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

এসএসসি পরীক্ষায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও এবার গতবারের চেয়ে বেশি। এটি ভালো ফলাফলের আরেকটি সূচক বৈকি! তবে আমরা মনে করি, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়াটাই বড় বিষয় নয়। শিক্ষার গুণগত মান কতটা বৃদ্ধি পেল সেটাই বড় বিষয়। অথচ লক্ষ করা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক সবসময় ব্যস্ত থাকেন কী করে তাদের সন্তান জিপিএ-৫ পাবে তা নিয়ে।

অনেক অভিভাবকের ধারণা, তাদের সন্তানের জিপিএ-৫ না পাওয়ার অর্থ বুঝি ওই শিক্ষার্থী জীবনে ভালো কিছু করতে পারবে না। এমন ধারণা যে একেবারেই ভিত্তিহীন তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় লক্ষ করা গেছে, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফল পায়নি।

এ থেকে বোঝা যায়, এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান সেভাবে বাড়ছে না। কাজেই শিক্ষার গুণগত মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। অভিযোগ আছে, এখনও অনেক শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদানে অক্ষম। ক্রমাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব শিক্ষকের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। ভালো ফলের জন্য এখনও অনেক শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল হলে এবং শিক্ষার্থীর নিজের চেষ্টা থাকলে এ নির্ভরতা কাটিয়ে ভালো ফল করা সম্ভব। শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়- সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো কঠিন।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হল। এরপর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তির পালা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ খুলবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে তা এখনও অনিশ্চিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া অনুচিতও বটে; শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মুখে ফেলা যায় না। যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলছে, ততদিন শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই ভর্তির প্রস্তুতি নিতে হবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবার প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তারা হতাশ না হয়ে আগামীতে যাতে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারে, সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত