বাসায় অক্সিজেন ব্যবহারের নিয়ম
jugantor
করোনা পরামর্শ
বাসায় অক্সিজেন ব্যবহারের নিয়ম

  ডা. রাইক রিদওয়ান  

১৩ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ রোগীর অক্সিজেন লাগলে আমি সাধারণত পরামর্শ দেব হাসপাতালে ভর্তি করাতে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা, হাসপাতালে সিট পাওয়া নাও যেতে পারে। বাসায় অক্সিজেন অনেক হিসাব করে দেয়া লাগে। একজন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনি অনেক ক্ষতি ডেকে আনতে পারেন নিজের ঘরে।

২. অকারণে অক্সিজেন নেবেন না। যে কোনো কিছুই অতিরিক্ত নিলে যেমন ক্ষতি, অক্সিজেনও তাই। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অক্সিজেন ক্ষতিকর।

৩. বাসার জন্য একটা পাল্স অক্সিমেট্রি মেশিন কিনবেন। সেটা পরে ১-২ মিনিট পর দেখবেন অক্সিজেন স্যাচুরেশন কত। ৯৩ শতাংশের বেশি হলে অক্সিজেন লাগবে না। এর কম হলে অক্সিজেন দেবেন, মেপে। যদি অক্সিজেন দিয়েই ৯৩ শতাংশে রাখতে পারেন, ওখানেই রাখবেন। জোর করে ১০০ শতাংশ করবেন না, সেটা ক্ষতিকর।

৪. সিলিন্ডারের সঙ্গে ন্যাসাল ক্যানুলা- নাকে পরার জন্য- লাগবে। ওটা দিয়ে সর্বোচ্চ ছয় লিটার দেয়া যায় এক মিনিটে। যদি দেখেন, ২-৪ লিটারেও রোগীর স্যাচুরেশন ৯২ শতাংশের নিচে, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করা অতি জরুরি। হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

৫. অক্সিজেনের সঙ্গে আর দুটি জিনিস দরকার। এক. anti-coagulant ওষুধ (ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে); আর দুই. রোগীকে ঢ়ৎড়হব বা উপুড় করে শুইয়ে দেবেন অক্সিজেন দেয়ার সময়।

৬. অক্সিজেন থেকে কিন্তু আগুন লাগতে পারে। তাই সেটা রান্নাঘর থেকে দূরে রাখবেন, তার কাছে ধূমপান করবেন না এবং রোগী মুখে এমন ক্রিম যেন ব্যবহার না করেন যেগুলোতে আগুন লাগতে পারে- যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বৃষ্টির সময় অনেক মশা হবে। মশা মারার জন্য কয়েল বা অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করবেন না- দুটোতেই আগুন লাগার ঝুঁকি আছে।

৭. ফায়ার সার্ভিসের নম্বর রাখবেন। বাসায় যদি আগুন লাগে, কিভাবে ঠেকাবেন তার একটা প্ল্যানও রাখবেন। পারলে ফায়ার এক্সটিংগুইসারও রাখতে পারেন।

ডা. রাইক রিদওয়ান : ইমার্জেন্সি মেডিসিনে স্পেশালিটি ট্রেইনি, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, যুক্তরাজ্য

করোনা পরামর্শ

বাসায় অক্সিজেন ব্যবহারের নিয়ম

 ডা. রাইক রিদওয়ান 
১৩ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ রোগীর অক্সিজেন লাগলে আমি সাধারণত পরামর্শ দেব হাসপাতালে ভর্তি করাতে। কিন্তু দেশের যে অবস্থা, হাসপাতালে সিট পাওয়া নাও যেতে পারে। বাসায় অক্সিজেন অনেক হিসাব করে দেয়া লাগে। একজন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনি অনেক ক্ষতি ডেকে আনতে পারেন নিজের ঘরে।

২. অকারণে অক্সিজেন নেবেন না। যে কোনো কিছুই অতিরিক্ত নিলে যেমন ক্ষতি, অক্সিজেনও তাই। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অক্সিজেন ক্ষতিকর।

৩. বাসার জন্য একটা পাল্স অক্সিমেট্রি মেশিন কিনবেন। সেটা পরে ১-২ মিনিট পর দেখবেন অক্সিজেন স্যাচুরেশন কত। ৯৩ শতাংশের বেশি হলে অক্সিজেন লাগবে না। এর কম হলে অক্সিজেন দেবেন, মেপে। যদি অক্সিজেন দিয়েই ৯৩ শতাংশে রাখতে পারেন, ওখানেই রাখবেন। জোর করে ১০০ শতাংশ করবেন না, সেটা ক্ষতিকর।

৪. সিলিন্ডারের সঙ্গে ন্যাসাল ক্যানুলা- নাকে পরার জন্য- লাগবে। ওটা দিয়ে সর্বোচ্চ ছয় লিটার দেয়া যায় এক মিনিটে। যদি দেখেন, ২-৪ লিটারেও রোগীর স্যাচুরেশন ৯২ শতাংশের নিচে, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করা অতি জরুরি। হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

৫. অক্সিজেনের সঙ্গে আর দুটি জিনিস দরকার। এক. anti-coagulant ওষুধ (ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে); আর দুই. রোগীকে ঢ়ৎড়হব বা উপুড় করে শুইয়ে দেবেন অক্সিজেন দেয়ার সময়।

৬. অক্সিজেন থেকে কিন্তু আগুন লাগতে পারে। তাই সেটা রান্নাঘর থেকে দূরে রাখবেন, তার কাছে ধূমপান করবেন না এবং রোগী মুখে এমন ক্রিম যেন ব্যবহার না করেন যেগুলোতে আগুন লাগতে পারে- যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বৃষ্টির সময় অনেক মশা হবে। মশা মারার জন্য কয়েল বা অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করবেন না- দুটোতেই আগুন লাগার ঝুঁকি আছে।

৭. ফায়ার সার্ভিসের নম্বর রাখবেন। বাসায় যদি আগুন লাগে, কিভাবে ঠেকাবেন তার একটা প্ল্যানও রাখবেন। পারলে ফায়ার এক্সটিংগুইসারও রাখতে পারেন।

ডা. রাইক রিদওয়ান : ইমার্জেন্সি মেডিসিনে স্পেশালিটি ট্রেইনি, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, যুক্তরাজ্য

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস