দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: সরষের ভূত কে তাড়াবে?
jugantor
দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: সরষের ভূত কে তাড়াবে?

  সম্পাদকীয়  

১৬ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ টিমের কার্যক্রম ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে অনেক দুর্নীতিবাজকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দুদক। কিন্তু এই সুনামকে পুঁজি করে দুদকের এক কর্মকতা প্রতিষ্ঠানটিকে যেভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে, তা উদ্বেগজনক।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জরুরি ফোন পেয়ে নৌপরিবহন অধিদফতরের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় যোগদান শেষে এক কর্মকর্তা অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পরীক্ষকদের জন্য নির্ধারিত কমনরুমে আসেন।

ওই সময় সেখানে দুটি বেসরকারি জাহাজের দু’জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় জরুরি কথা বলতে চান উল্লেখ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কমনরুমে প্রবেশের অনুমতি চান। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অনুমতি দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ওই কর্মকর্তার হাতে একটি চিরকুট দেন।

এ সময় ওই কর্মকর্তা অজ্ঞাত লোকটিকে বলেন, জাহাজ সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন করার যে নিয়মকানুন আছে, সেভাবে তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাস্থানে আবেদন করতে হবে। এরপর লোকটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দুদকের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফাঁদ টিম প্রবেশ করে। টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা অজ্ঞাত লোকটির সঙ্গে ঘুষ লেনদেন করছিলেন।

প্রমাণ হিসেবে ওই কক্ষ থেকে নগদ অর্থও জব্দ দেখানো হয়। যে কর্মকর্তার নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পদে কয়েকদিনের মধ্যে পদোন্নতি পাওয়ার আলোচনা চলছিল, তাকেই দুদকের ফাঁদ টিম গ্রেফতার করে। বিষয়টি কৌতূহল উদ্দীপক। উল্লেখ্য, এ ঘটনা সূত্রে কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান ওই কর্মকর্তা।

মুক্তির পর আবারও তাকে জেলে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আরও অভিযোগ- পদোন্নতি ঠেকাতে এক দুদক কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন ফাঁদ টিমকে ব্যবহার করেছে নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রতিপক্ষ গ্রুপ।

জানা যায়, ঘুষ লেনদেনের স্থানের সিসিটিভির সকাল বেলার কয়েক মিনিটের ফুটেজ পাওয়া গেলেও ওইদিন বিকালে সিসিটিভির রেকর্ড অপশন ‘অফ’ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হল, ওই ঘটনার দিন নৌপরিবহন অধিদফতরের সমন্বয় সভা চলাকালীন অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ডেটা ফরম্যাট করে সিসিটিভির ফুটেজ মুছে দিল কে?

কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত? আমরা মনে করি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। সরষের মধ্যে ভূত থাকার অভিযোগ যেন না ওঠে, সে জন্য এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: সরষের ভূত কে তাড়াবে?

 সম্পাদকীয় 
১৬ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ টিমের কার্যক্রম ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে অনেক দুর্নীতিবাজকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দুদক। কিন্তু এই সুনামকে পুঁজি করে দুদকের এক কর্মকতা প্রতিষ্ঠানটিকে যেভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে, তা উদ্বেগজনক।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জরুরি ফোন পেয়ে নৌপরিবহন অধিদফতরের মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় যোগদান শেষে এক কর্মকর্তা অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পরীক্ষকদের জন্য নির্ধারিত কমনরুমে আসেন।

ওই সময় সেখানে দুটি বেসরকারি জাহাজের দু’জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় জরুরি কথা বলতে চান উল্লেখ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কমনরুমে প্রবেশের অনুমতি চান। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অনুমতি দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ওই কর্মকর্তার হাতে একটি চিরকুট দেন।

এ সময় ওই কর্মকর্তা অজ্ঞাত লোকটিকে বলেন, জাহাজ সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন করার যে নিয়মকানুন আছে, সেভাবে তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাস্থানে আবেদন করতে হবে। এরপর লোকটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দুদকের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফাঁদ টিম প্রবেশ করে। টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা অজ্ঞাত লোকটির সঙ্গে ঘুষ লেনদেন করছিলেন।

প্রমাণ হিসেবে ওই কক্ষ থেকে নগদ অর্থও জব্দ দেখানো হয়। যে কর্মকর্তার নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পদে কয়েকদিনের মধ্যে পদোন্নতি পাওয়ার আলোচনা চলছিল, তাকেই দুদকের ফাঁদ টিম গ্রেফতার করে। বিষয়টি কৌতূহল উদ্দীপক। উল্লেখ্য, এ ঘটনা সূত্রে কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান ওই কর্মকর্তা।

মুক্তির পর আবারও তাকে জেলে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আরও অভিযোগ- পদোন্নতি ঠেকাতে এক দুদক কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন ফাঁদ টিমকে ব্যবহার করেছে নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রতিপক্ষ গ্রুপ।

জানা যায়, ঘুষ লেনদেনের স্থানের সিসিটিভির সকাল বেলার কয়েক মিনিটের ফুটেজ পাওয়া গেলেও ওইদিন বিকালে সিসিটিভির রেকর্ড অপশন ‘অফ’ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হল, ওই ঘটনার দিন নৌপরিবহন অধিদফতরের সমন্বয় সভা চলাকালীন অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ডেটা ফরম্যাট করে সিসিটিভির ফুটেজ মুছে দিল কে?

কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত? আমরা মনে করি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। সরষের মধ্যে ভূত থাকার অভিযোগ যেন না ওঠে, সে জন্য এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন