সিপিডির বাজেট সংলাপ
jugantor
সিপিডির বাজেট সংলাপ
প্রস্তাবগুলো আমলে নিন

  সম্পাদকীয়  

২২ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির বাজেট-পরবর্তী সংলাপে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের বাজেট সংলাপ ভার্চুয়াল তথা অনলাইনে হয়েছে।
ফাইল ছবি

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির বাজেট-পরবর্তী সংলাপে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের বাজেট সংলাপ ভার্চুয়াল তথা অনলাইনে হয়েছে।

এতে উপস্থিত বক্তারা বলেছেন, করোনা সংকটকালে সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, প্রস্তাবিত বাজেটে মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা বলে, করোনা সংকট না কাটলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তার ওপর দেশে বিনিয়োগ নেই।

ফলে প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (৮ দশমিক ২ শতাংশ) অর্জন সম্ভব তো হবেই না, উল্টো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর বাজেট পুনর্মূল্যায়নের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

মহামারীর এ সময়ে পুরো এক বছরের বাজেট ঘোষণা না করে প্রথমে ছয় মাস করোনা মোকাবেলা ও পরের ছয় মাস করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট ঘোষণার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

আমরা মনে করি, সরকার সিপিডির সংলাপ থেকে অনেক কিছু নিতে পারে, বিশেষত বাজেট তিন মাস পরপর পর্যালোচনার বিষয়টি করোনা পরিস্থিতি ছাড়া স্বাভাবিক সময়েও ইতিবাচক ফল নিয়ে আসতে পারে।

বাজেট একটি দেশের আয়-ব্যয়ের দলিল। অন্যান্য বছর বাজেট নিয়ে আগে থেকেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা, বাজেটপূর্ব মতবিনিময় ইত্যাদির আয়োজন করা হলেও এবার সেটি করা যায়নি। ফলে নানা পক্ষ থেকে আসা মতামতগুলো আমলে নেয়া দরকার। যেমন- সিপিডির সংলাপে স্বাস্থ্য খাতে জোর দেয়াসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারের মত এসেছে জোরালোভাবে।

এনবিআরের সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। সরকারের মূল রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটির সংস্কার, একে আরও কর্মক্ষম করা প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থে। অন্যদিকে করোনা মহামারী থেকে পাওয়া শিক্ষার কারণে এ বছর তো বটেই, নিয়মিতই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন খুবই দরকার।

উপজেলা পর্যায়ে যেখানে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন-ভেন্টিলেটর থাকা দরকার, সেখানে আমাদের জেলা, এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও করুণ অবস্থা। ফলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, অনিয়ম-দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে আমূল সংস্কারের বিকল্প নেই।

সিপিডির সংলাপে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি নানা অংশীজনকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কীভাবে খরচ হচ্ছে, সামাজিক কর্মসূচির টাকা কীভাবে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে ইত্যাদিসহ প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে কাজ করবেন। এ ধরনের টাস্কফোর্স করা গেলে বিষয়টি ভালো ফল বয়ে আনবে ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানো সহজ হবে বলে আমরা মনে করি।

সংলাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও বাজেটে ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। অন্যথায়, সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়াও সংলাপে রাজস্ব বাড়াতে না পারলে সরকারকে টাকা ছেপে বেতন দিতে হবে বলে অভিমত এসেছে। ব্যক্তি করের ক্ষেত্রে ছাড়ের কারণে নিম্নআয়ের চেয়ে উচ্চআয়ের মানুষ বেশি সুবিধা পাবেন বলে মত এসেছে। করোনা সংকট থেকে অর্থনীতি উদ্ধারে টাস্কফোর্স গঠন, বাজেট পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সুপারিশগুলো আমলে নেয়া যেতে পারে।

সিপিডির বাজেট সংলাপ

প্রস্তাবগুলো আমলে নিন
 সম্পাদকীয় 
২২ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতি বছরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির বাজেট-পরবর্তী সংলাপে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের বাজেট সংলাপ ভার্চুয়াল তথা অনলাইনে হয়েছে।
ফাইল ছবি

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির বাজেট-পরবর্তী সংলাপে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের বাজেট সংলাপ ভার্চুয়াল তথা অনলাইনে হয়েছে।

এতে উপস্থিত বক্তারা বলেছেন, করোনা সংকটকালে সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করেছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, প্রস্তাবিত বাজেটে মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা বলে, করোনা সংকট না কাটলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তার ওপর দেশে বিনিয়োগ নেই।

ফলে প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (৮ দশমিক ২ শতাংশ) অর্জন সম্ভব তো হবেই না, উল্টো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস পরপর বাজেট পুনর্মূল্যায়নের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

মহামারীর এ সময়ে পুরো এক বছরের বাজেট ঘোষণা না করে প্রথমে ছয় মাস করোনা মোকাবেলা ও পরের ছয় মাস করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট ঘোষণার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।

আমরা মনে করি, সরকার সিপিডির সংলাপ থেকে অনেক কিছু নিতে পারে, বিশেষত বাজেট তিন মাস পরপর পর্যালোচনার বিষয়টি করোনা পরিস্থিতি ছাড়া স্বাভাবিক সময়েও ইতিবাচক ফল নিয়ে আসতে পারে।

বাজেট একটি দেশের আয়-ব্যয়ের দলিল। অন্যান্য বছর বাজেট নিয়ে আগে থেকেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা, বাজেটপূর্ব মতবিনিময় ইত্যাদির আয়োজন করা হলেও এবার সেটি করা যায়নি। ফলে নানা পক্ষ থেকে আসা মতামতগুলো আমলে নেয়া দরকার। যেমন- সিপিডির সংলাপে স্বাস্থ্য খাতে জোর দেয়াসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারের মত এসেছে জোরালোভাবে।

এনবিআরের সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। সরকারের মূল রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটির সংস্কার, একে আরও কর্মক্ষম করা প্রয়োজন জাতীয় স্বার্থে। অন্যদিকে করোনা মহামারী থেকে পাওয়া শিক্ষার কারণে এ বছর তো বটেই, নিয়মিতই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন খুবই দরকার।

উপজেলা পর্যায়ে যেখানে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন-ভেন্টিলেটর থাকা দরকার, সেখানে আমাদের জেলা, এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও করুণ অবস্থা। ফলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, অনিয়ম-দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে আমূল সংস্কারের বিকল্প নেই।

সিপিডির সংলাপে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি নানা অংশীজনকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কীভাবে খরচ হচ্ছে, সামাজিক কর্মসূচির টাকা কীভাবে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে ইত্যাদিসহ প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে কাজ করবেন। এ ধরনের টাস্কফোর্স করা গেলে বিষয়টি ভালো ফল বয়ে আনবে ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছানো সহজ হবে বলে আমরা মনে করি।

সংলাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও বাজেটে ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। অন্যথায়, সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়াও সংলাপে রাজস্ব বাড়াতে না পারলে সরকারকে টাকা ছেপে বেতন দিতে হবে বলে অভিমত এসেছে। ব্যক্তি করের ক্ষেত্রে ছাড়ের কারণে নিম্নআয়ের চেয়ে উচ্চআয়ের মানুষ বেশি সুবিধা পাবেন বলে মত এসেছে। করোনা সংকট থেকে অর্থনীতি উদ্ধারে টাস্কফোর্স গঠন, বাজেট পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সুপারিশগুলো আমলে নেয়া যেতে পারে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০২০-২১

০২ জুলাই, ২০২০