কৃষকের মূলধন সংকট: ভর্তুকি ও প্রণোদনার সুফল নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ২৮ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

দেশের ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের অন্তত ৮৪ শতাংশ মূলধন সংকটে রয়েছেন। এসব কৃষক অর্থাভাবে স্থানীয় চালকল মালিক, চাল ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন চড়া শর্তে ঋণ নিয়ে ফসল ফলিয়ে থাকেন।

ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের শর্তে বেঁধে দেয়া দামে উৎপাদিত শস্য সুবিধাভোগী ঋণদাতাদের কাছে বিক্রি করতে হয়। এ কারণে তাদের হাতে কোনো বাড়তি অর্থ থাকে না। এমনকি আবার ফসল বোনার সময় আসার আগে এ কৃষককেই নিজেদের বিক্রি করা ধানের চাল দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে কিনে খেতে হয়। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে!

এবার সরকারি সংগ্রহে ধানের মণ ১ হাজার ২৪ টাকা; কিন্তু হাওর অঞ্চলের কৃষককে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ধান বিক্রি করতে হয়েছে মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আবার পরবর্তী মৌসুমে ফসল তোলার আগে এ ধানের চালই তাদের মণপ্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় কিনতে হবে। ফলে প্রান্তিক এসব কৃষক পরে আরও বেশি করে ধার করবে এবং ধান বোনার পর টাকা শোধ করে আবার ঋণের ফাঁদে পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে কৃষি থেকে তাদের আগ্রহ যে চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে না এবং ভোক্তাদের বাড়তি দাম দিতে হবে চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের জন্য। অথচ যে কোনো সংকটে অবহেলিত ও বঞ্চিত কৃষকই ভরসা। কাজেই কৃষকের হাতে নগদ অর্থ থাকার ব্যবস্থা করার বিকল্প নেই।

কৃষকের মূলধন সংকটে কৃষি খাত যাতে বিপর্যস্ত না হয় এবং সুষম উৎপাদন প্রক্রিয়া বজায় থাকে সেজন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে কৃষক যাতে উৎপাদিত শস্যের ন্যায্যমূল্য পায়, তার ওপর। কৃষিপণ্যের সিন্ডিকেট, ফড়িয়া-মধ্যস্বত্বভোগী ইত্যাদির দৌরাত্ম্য দূর করা গেলে এমনিতেই কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে এবং তারা উৎপাদনে আরও বেশি শ্রম দেবে।

ভর্তুকিতে কম দামে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষিসামগ্রী কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। আশার কথা, সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমন ধানের মৌসুমে বীজের দাম ৪০ টাকা কেজি থাকলেও সরকার কিনে সেটা ২০ টাকায় কৃষককে দিয়েছে। এমন উদ্যোগ চলমান থাকতে হবে। সর্বোপরি নগদ প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে কৃষককে। সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ঋণের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে; কিন্তু প্রকৃত কৃষক পর্যন্ত সেটি সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কৃষি হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান খাত। সরকার সবসময় ভর্তুকি-প্রণোদনা প্রদানসহ নানাভাবে এ খাতের মূল্যায়ন করে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সুবিধাগুলো সব ক্ষেত্রে কৃষক পর্যন্ত পৌঁছায় না। আমরা আশা করব, সরবরাহ চেইন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারের খাদ্যশস্য কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি কৃষকের মূলধন সংকট কাটানোর জন্য উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত