শিক্ষানবিস আইনজীবীদের বাঁচান

  কেএম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু ২৯ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস যেন বার কাউন্সিলে প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ ১২,৫০০ শিক্ষানবিসের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে গেছে। এদিকে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী এমসিকিউ পরীক্ষার প্রতীক্ষায় ব্যাকুল।

অপরদিকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মানবিক বিবেচনায় শিক্ষানবিস সনদ প্রদানের দাবি তো রয়েছেই। উল্লেখ্য, একজন আইনের শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম এলএলবি পাস করে ৬ মাসের শিক্ষানবিসকাল (পিউপিলেজ) অতিবাহিত করে প্রাথমিক ধাপে পরীক্ষার অনুমতি নিতে হয়। শুরু হয় তীর্থের কাকের মতো ক্ষণ গণনা।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী ওই ৬ মাস পর পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের গা-ঝাড়া দিতে দিতে আড়াই থেকে তিন বছর লেগে যায়।

বিশ্বের আর কোথাও পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতার এই অদ্ভুত পদ্ধতি আছে কিনা জানা নেই। এদিকে অনেকে অন্যান্য পেশার প্রতি নিরাসক্ত হয়ে স্বল্পমেয়াদি পাস কোর্স করে একই কাতারে দাঁড়ায়। এদের অবস্থা হয় আরও বেশি শোচনীয়। এমতাবস্থায় পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই মহান পেশার প্রতি আকৃষ্ট হবেন কীভাবে?

করোনার মহাদুর্যোগে মানবসভ্যতার আজ ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। শিক্ষানবিস আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন সুখ-দুঃখের অবস্থা জানিয়ে উধ্বর্তন কর্তাব্যক্তিদের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে। কিন্তু দেনদরবার করেও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। অগত্যা তারা ভার্চুয়াল আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। ৩০ জুন ঢাকাসহ প্রত্যেক জেলায় আন্দোলন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

কিন্তু এই আন্দোলন কতখানি ফলপ্রসূ হবে, সেটিই বা কে জানে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই বাঁচাতে পারে শিক্ষানবিস আইনজীবীদের। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মোক্তারদের যে অ্যাডোভোকেট হিসেবে উন্নীত করেছিলেন, সে ব্যাপারটি নজির হতে পারে। তাছাড়া The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order,1972-এর ২৭(১)(ডি) অনুচ্ছেদমাফিক প্রাথমিক ধাপে উত্তীর্ণ ২০১৭ ও ২০২০ সালের শিক্ষানবিসদের, আদেশ ৪০(১) ও ৪০(২)(এম) অনুযায়ী গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা সনদ প্রদান করতে আইনি কোনো বাধা-নিষেধ নেই।

অর্ডার ৪০(১)-এ বলা হয়েছে, ‘The Bar Council may, with the prior approval of the Government by notification in the official Gayette, make rules to carry out the purposes of this Order । Article ৪০(২)(এম)-এ বলা হয়েছে, ‘the examination to pass for admission as an advocate’। অতএব এটি বার কাউন্সিলের সংরক্ষিত ক্ষমতা।

শুধু প্রণীত বিধিতে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এটি আইন মন্ত্রণালয়ের রুটিন ওয়ার্ক।

বার কাউন্সিল এ মর্মে রেজুলেশন গ্রহণ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবে, মন্ত্রণালয় সেটির অনুমোদন দেবে, এটিই আইনের বিধান। এক্ষেত্রে কাউন্সিল তার প্রণীত বিধির ৬০(৩)-এর যে কোনো জায়গায় সাপ্লিমেন্টারি আইন সংযুক্ত করলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আইনজীবী হতে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

২০১৪ সালের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম দারুল ইহসান মামলায় আপিলেট ডিভিশন ২০১৭ সালে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় ১২টি নির্দেশনার সর্বশেষ নির্দেশনা ছিল- ‘The Bar Council shall complete the enrollment process of the

applicants to be enrolled as Advocates in the district court each Calendar year.’ সুতরাং প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, এটিই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। ভুক্তভোগী শিক্ষানবিস আইনজীবীদের সামনের দিগন্তকে প্রসারিত করতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

কেএম মাহ্ফুজুর রহমান মিশু : অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট (লিগ্যাল), অরোরা রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ঢাকা

[email protected]

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত