বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
jugantor
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয়  

৩০ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ড সোমবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩০টি লাশ উদ্ধার করেছে।

এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসছিল। কোনো ঝড় বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াজনিত কারণে নয়; জানা যায় সকাল ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার পয়েন্টে ময়ূর-২ নামে অপর একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। অর্থাৎ এ দুর্ঘটনার জন্য কেউ না কেউ দায়ী। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা উদ্ঘাটন করতে হবে।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বড় লঞ্চডুবির ঘটনা না ঘটলেও অতীতে প্রায় প্রতি বছরই ছোট-বড় নৌ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা, লঞ্চের নকশায় সমস্যা, ফিটনেস তদারকির অভাব ইত্যাদি কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে কেবল তখনই, যখন কোনো লঞ্চডুবিতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়।

অন্য সময় এ বিষয়গুলো দেখভাল করার যেন কেউ থাকে না। লঞ্চডুবির ঘটনায় কারও তেমন কোনো শাস্তিও হয় না। লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে প্রথমেই কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৈরি করা অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের খসড়া ২০১৮ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, যাতে নৌযান দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, নৌযান মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সাজা কমিয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন খসড়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাবিক বা অন্য কারও অদক্ষতা, অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে কী ধরনের সাজা হবে তাও সরাসরি খসড়ায় রাখা হ

য়নি। এভাবে আইনটি চূড়ান্ত হলে নৌ দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা কতটা সাবধানতা অবলম্বন করবেন, সেটাই প্রশ্ন। বস্তুত যে কোনো দুর্ঘটনা রোধেই সংশ্লিষ্ট আইন ও তার বাস্তবায়ন কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিক নকশা অনুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ, লঞ্চের ফিটনেস নিয়মিত তদারকি এবং চালক ও সহযোগীদের দক্ষতা-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এ পুরো খাতটির ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ নদীপ্রধান দেশ। এখনও অনেক স্থানের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী হওয়ার কারণেও অনেকে লঞ্চকে বেছে নেন যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে। তাই এ মাধ্যমটির নিরাপত্তার দিকে অধিকতর দৃষ্টি দেয়া দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, লঞ্চডুবিতে যারা প্রাণ হারান তাদের পরিবারে চিরদিনের জন্য দুঃখের বীজ বপন হয়। সোমবার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। সরকারের পক্ষ থেকে যেন প্রতিটি পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়। সেই সঙ্গে লঞ্চডুবির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অবশ্যই।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

 সম্পাদকীয় 
৩০ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ড সোমবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৩০টি লাশ উদ্ধার করেছে।

এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসছিল। কোনো ঝড় বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াজনিত কারণে নয়; জানা যায় সকাল ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার পয়েন্টে ময়ূর-২ নামে অপর একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। অর্থাৎ এ দুর্ঘটনার জন্য কেউ না কেউ দায়ী। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা উদ্ঘাটন করতে হবে।

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বড় লঞ্চডুবির ঘটনা না ঘটলেও অতীতে প্রায় প্রতি বছরই ছোট-বড় নৌ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা, লঞ্চের নকশায় সমস্যা, ফিটনেস তদারকির অভাব ইত্যাদি কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে কেবল তখনই, যখন কোনো লঞ্চডুবিতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়।

অন্য সময় এ বিষয়গুলো দেখভাল করার যেন কেউ থাকে না। লঞ্চডুবির ঘটনায় কারও তেমন কোনো শাস্তিও হয় না। লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে প্রথমেই কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৈরি করা অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের খসড়া ২০১৮ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, যাতে নৌযান দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, নৌযান মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সাজা কমিয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন খসড়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাবিক বা অন্য কারও অদক্ষতা, অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে কী ধরনের সাজা হবে তাও সরাসরি খসড়ায় রাখা হ

য়নি। এভাবে আইনটি চূড়ান্ত হলে নৌ দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা কতটা সাবধানতা অবলম্বন করবেন, সেটাই প্রশ্ন। বস্তুত যে কোনো দুর্ঘটনা রোধেই সংশ্লিষ্ট আইন ও তার বাস্তবায়ন কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিক নকশা অনুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ, লঞ্চের ফিটনেস নিয়মিত তদারকি এবং চালক ও সহযোগীদের দক্ষতা-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এ পুরো খাতটির ওপর কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ নদীপ্রধান দেশ। এখনও অনেক স্থানের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী হওয়ার কারণেও অনেকে লঞ্চকে বেছে নেন যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে। তাই এ মাধ্যমটির নিরাপত্তার দিকে অধিকতর দৃষ্টি দেয়া দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, লঞ্চডুবিতে যারা প্রাণ হারান তাদের পরিবারে চিরদিনের জন্য দুঃখের বীজ বপন হয়। সোমবার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। সরকারের পক্ষ থেকে যেন প্রতিটি পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়। সেই সঙ্গে লঞ্চডুবির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অবশ্যই।