বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
jugantor
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
ত্রাণ ও পুনর্বাসনে তৎপর হতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে দেখা দেয়া বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তাসহ নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে অন্তত ১৪টি জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির পূর্বাভাস দিয়েছে।

তবে ইতোমধ্যেই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙনের মুখে পড়েছে বাঁধ। এ পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় মানুষের ভোগান্তি যে আর বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুত বন্যা বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে। তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। নিরাপদ পানির অভাব থেকে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সৃষ্টি হয় যোগাযোগ সংকটও। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিঘ্নিত হয়। কাজেই এসব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারের অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। ত্রাণসামগ্রী পাঠানো দরকার দ্রুত। শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ত্রাণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। শুধু সরকারি ত্রাণ তৎপরতা নয়, বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন। দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত উদ্যোগ এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে। দেশে এমন এক সময় বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যখন করোনা মহামারী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ প্রেরণ এবং তাদের পুনর্বাসনের বিকল্প নেই।

ত্রাণ কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হতে হবে। এমনিতেই করোনার কারণে বহু মানুষের আয়-রোজগারের পথ হয়ে গেছে বন্ধ। তার ওপর বন্যার কারণে অনেকের বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষের ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি এনজিওগুলোও তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, এটিই কাম্য।

বন্যা এ দেশে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়, প্রতি বছরই কম-বেশি বন্যা দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। বস্তুত যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেই আগাম ব্যবস্থা, সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। কেননা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ বা বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। আরও একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে প্লাবনভূমির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এতে কম পানিতেই বেশি বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এসব নদীর শাখা নদীগুলোর স্রোতপ্রবাহের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য লোপ পেয়েছে এবং এগুলোও অনেকটা প্লাবনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ছোট শাখা নদীগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে বেয়ে আসা পলি নিয়মিতভাবে ও দ্রুত অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যার প্রকোপ ও ব্যাপ্তি ক্রমেই বাড়তে থাকবে। তাই অবিলম্বে এ দিকটিতে দৃষ্টি দিতে হবে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

ত্রাণ ও পুনর্বাসনে তৎপর হতে হবে
 সম্পাদকীয় 
০১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে দেখা দেয়া বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তাসহ নয়টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে অন্তত ১৪টি জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির পূর্বাভাস দিয়েছে।

তবে ইতোমধ্যেই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীভাঙন তীব্র হওয়ায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ভাঙনের মুখে পড়েছে বাঁধ। এ পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় মানুষের ভোগান্তি যে আর বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বস্তুত বন্যা বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলে। তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকট। নিরাপদ পানির অভাব থেকে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সৃষ্টি হয় যোগাযোগ সংকটও। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিঘ্নিত হয়। কাজেই এসব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারের অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। ত্রাণসামগ্রী পাঠানো দরকার দ্রুত। শুকনা খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন ইত্যাদি প্রাণরক্ষা-সহায়ক উপাদানের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ত্রাণ ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। শুধু সরকারি ত্রাণ তৎপরতা নয়, বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন। দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত উদ্যোগ এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে। দেশে এমন এক সময় বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যখন করোনা মহামারী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ প্রেরণ এবং তাদের পুনর্বাসনের বিকল্প নেই।

ত্রাণ কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হতে হবে। এমনিতেই করোনার কারণে বহু মানুষের আয়-রোজগারের পথ হয়ে গেছে বন্ধ। তার ওপর বন্যার কারণে অনেকের বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষের ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি এনজিওগুলোও তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, এটিই কাম্য।

বন্যা এ দেশে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়, প্রতি বছরই কম-বেশি বন্যা দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। বস্তুত যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেই আগাম ব্যবস্থা, সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। কেননা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ বা বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পূর্বপ্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। আরও একটি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা দরকার।

দেশের নদ-নদীগুলোর নাব্য হ্রাস পেয়েছে এবং এর ফলে প্লাবনভূমির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এতে কম পানিতেই বেশি বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। এসব নদীর শাখা নদীগুলোর স্রোতপ্রবাহের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য লোপ পেয়েছে এবং এগুলোও অনেকটা প্লাবনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

ছোট শাখা নদীগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নদী খননের মাধ্যমে উজান থেকে বেয়ে আসা পলি নিয়মিতভাবে ও দ্রুত অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে দেশে বন্যার প্রকোপ ও ব্যাপ্তি ক্রমেই বাড়তে থাকবে। তাই অবিলম্বে এ দিকটিতে দৃষ্টি দিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন