লকডাউন নিয়ে দোদুল্যমানতা: বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়

  সম্পাদকীয় ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্তৃপক্ষের দোদুল্যমানতা দেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল বিএমডিসির সভাপতিকে আহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি করোনাভাইরাসে বেশি সংক্রমিত হওয়া তুলনামূলক বড় এলাকা নিয়ে কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকরের পরামর্শ দেয়। ইতোমধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১ জুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় সংক্রমণ বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকাকে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকায় ভাগ করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনভুক্ত পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউন শুরু হয়। তবে একই সময়ে আরও কিছু স্থানে লকডাউন কার্যকরের কথা থাকলেও তা সেভাবে বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এ পটভূমিতে হঠাৎ করেই জানা গেল, করোনার সংক্রমণ রোধে বর্তমানে বড় এলাকা বা ছোট জায়গায় গুচ্ছভিত্তিক নয়; বরং একটি বা দুটি বাড়ি ধরে লকডাউন কার্যকর করা হবে। দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে মানুষের অবাধ চলাচলের সুযোগে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ রাজধানী থেকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রান্তিক পর্যায়ে। জানা গেছে, টেকনিক্যাল কমিটি দফায় দফায় বড় এলাকা নিয়ে লকডাউন কার্যকরের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্টরা নানা ধরনের সমস্যা সামনে নিয়ে আসায় তা বাস্তবে রূপ লাভ করেনি।

এ প্রেক্ষাপটে বড় এলাকা বাদ দিয়ে ছোট এলাকা গুচ্ছভিত্তিক অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে ছোট ছোট জোন নির্ধারণের জন্য ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হলে অনেকটা সময় চলে যায়। অথচ এ পর্যায়ে আগের পদ্ধতি থেকে সরে এসে বলা হচ্ছে একটি বা দুটি বাড়ি ধরে লকডাউন কার্যকরের কথা। এক মাসে তিন দফায় সিদ্ধান্তের এ পরিবর্তনে লকডাউন কার্যকরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

উপরোক্ত পদ্ধতিতে লকডাউন করে করোনা মোকাবেলা সম্ভব কিনা, তা ভেবে দেখা উচিত। একটি বা দুটি বাড়ি ধরে লকডাউন কার্যকর করার পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না বলেই মনে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি অবরুদ্ধ করে সংক্রমণ রোধ করা যাবে না এবং এভাবে শুধু সময়ক্ষেপণ হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস।

প্রতিটি দেশ তাদের সবটুকু দিয়ে জীবনসংহারি এ ভাইরাসকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে। আমাদের এখানে ভাইরাসটি প্রতিহত করতে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ পর্যায় হল সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে লকডাউন বাস্তবায়ন করা।

ভাইরাসটির বিস্তার রোধের প্রধান উপায় হচ্ছে কার্যকর লকডাউন ও নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। বাস্তবতা হল, আমরা এগুলোর একটিও কার্যকরভাবে প্রতিপালন করতে পারিনি। করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।

হাঁচি, কাশি ছাড়া লালারস থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস। কাজেই এ মুহূর্তে সাবধানতা অবলম্বন করে বেঁচে থাকাটাই জরুরি। এ সংকটকালে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় লকডাউন কার্যকরের যে অভিজ্ঞতা, তার আলোকে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সব এলাকায় যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত