শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা-গবেষণায় টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

  সম্পাদকীয় ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পেরিয়ে শতবর্ষে পা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ১৯২১ সালের ১ জুলাই পথচলা শুরু হয় দেশের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠের। একটি জাতিরাষ্ট্র তৈরির নেতৃত্ব দেয়ার মতো বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক অর্জনের পেছনে গৌরবজনক ভূমিকা রেখেছে।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনীতিসহ আমাদের সব অর্জনে সামনে থেকে পথ দেখানোর পাশাপাশি শিক্ষা-গবেষণায়ও রেখেছে অসামান্য অবদান। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, কালক্রমে দলীয় লেজুড়বৃত্তির শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতিতে নিমজ্জিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ তথা গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছে ঢাবি।

সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এবং রাজনীতি সচেতনতা যে এক বিষয় নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তার ছাত্র, শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান-গবেষণায় আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে।

শতবর্ষে পদার্পণ করা একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরবের তাতে সন্দেহ নেই। শতবর্ষের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে বিশ্বের বুকে অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নেয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং সেসব নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণই হতে হবে প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

এটি সত্য, বিদ্যমান বাস্তবতার কারণে ঢাবিসহ সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই সক্ষমতার চেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী নিয়ে চলতে হয়। তারপরও সীমিত সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়েই বাঙালির অতীতের সব অর্জন এসেছে। ঢাবিও সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে থেকেই অদম্য সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার কারণে জাতির নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পেরেছে। ভবিষ্যতেও তাদের মূল কাজে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই।

বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তৈরি হয় গবেষণা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও সাইটেশনের মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে দেখা যায় না।

তবে আশার কথা, জ্ঞান-গবেষণায় এগিয়ে যাওয়া ও নিজেদের গবেষণার বিষয়গুলো তুলে ধরার উদ্যোগ এরই মধ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষ নিয়েছে। আমরা আশা করব, শতবর্ষে পদার্পণের পর কর্তৃপক্ষ সেগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি আরও নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে এবং ঢাবিকে বিশ্বের বুকে গৌরবের আসনে ঠাঁই করাবে।

সব সরকারের আনুকূল্য পাওয়া এবং দেশের মেধাবীদের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ হওয়ার পরও ঢাবি গবেষণা ও জ্ঞান তৈরিতে সেভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি, এটি দুঃখজনক। আমাদের প্রত্যাশ্যা, সেই দুঃখ ঘোচানোর পথচলা শুরু হবে শতবর্ষে।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত