সংকটে মধ্যবিত্ত, সরকারের বিশেষ মনোযোগ কাম্য

  সম্পাদকীয় ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সংকটে পড়েছে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি। নিম্ন আয়ের মানুষ সরকার ও বিত্তবানদের কাছ থেকে নানা ধরনের সাহায্য-সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্তকে সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসছে না।

আবার সামাজিক বাস্তবতার কারণে মধ্যবিত্তের পক্ষে কোনো ধরনের দান বা সাহায্য গ্রহণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। কেননা তারা কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। ফলে মধ্যবিত্তের অবস্থা এখন সঙ্গিন।

করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় বেসরকারি খাতে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের আবার বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসের প্রভাবে চাকরি হারিয়েছেন ১৩ শতাংশ মানুষ এবং আয় কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের।

অপরদিকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে চাকরি হারিয়েছেন ৩৬ শতাংশ মানুষ। আর ৩ শতাংশের চাকরি থাকলেও বেতন পান না। এদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত। এছাড়া বিদেশে কর্মরত কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী কাজ হারিয়েছেন।

এ অবস্থায় একদিকে আর্থিক কষ্ট, অন্যদিকে সামাজিক বাস্তবতার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। অনেকে সংসারের খরচ কমিয়ে দিয়ে কষ্টেশিষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচের ভার সামলাতে না পেরে চলে যাচ্ছেন গ্রামে।

উল্লেখ্য, রাজধানীতে ভাড়া বাসায় থাকেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। তাদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্তের পর্যায়ে পড়েন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়ার বোঝা বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।

বস্তুত করোনার ব্যাপকতা যেন মধ্যবিত্তের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকাল কবে শেষ হবে সে বিষয়টি অনিশ্চিত থাকায় মধ্যবিত্তের অবস্থার আশু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এ বাস্তবতায় মধ্যবিত্তকে টিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনে রাখতে হবে, দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান মধ্যবিত্ত শ্রেণির। শুধু তাই নয়, তারা সমাজ বিনির্মাণে এবং সমাজকে টিকিয়ে রাখতে পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। এক কথায়, সমাজের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণই বেশি।

কাজেই মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে সরকারের মনোযোগ থেকে দূরে রাখা হলে সমাজের জন্য এর ফল ভালো হবে না; বরং উল্টে যেতে পারে অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রের হিসাব-নিকাশ। তাই আমরা মনে করি, মধ্যবিত্তকে বাঁচাতে হবে যে কোনো উপায়ে। তাদের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।

এটা অনস্বীকার্য যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার পূর্ণ মাত্রায় সচল হবে। ফলে মানুষ আবার তাদের কাজে ফিরে যেতে পারবে এবং সংকট দূর হবে মধ্যবিত্তের।

কাজেই করোনা যাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে সে জন্য কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দোদুল্যমানতা বা দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের কষ্ট লাঘবে সাময়িক কিছু প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও ভাবতে হবে সরকারকে।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত