লঞ্চডুবির তদন্ত প্রতিবেদন

দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুড়িগঙ্গায় গত সোমবারের লঞ্চডুবির ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী প্রধানত এমভি ময়ূর-২ এর চালকরা। লঞ্চটি নির্দিষ্ট সময়ের কমপক্ষে দেড় ঘণ্টা আগে লালকুঠি (সদরঘাট) ঘাটে আসছিল। আসার পথে ময়ূর-২ প্রথমে মর্নিং বার্ডের (দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ) পেছন দিকে, পরে সামনের দিকে ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গেই মর্নিং বার্ড ডুবে যায়।

এছাড়া মর্নিং বার্ডের চালকের আসনে যার থাকার কথা ছিল তিনি ছিলেন না, ছিলেন অন্য ব্যক্তি। উল্লেখ্য, লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। তদন্তে বেঁচে যাওয়া যাত্রী, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। জানা গেছে, প্রায় সব বিষয়েই মতৈক্যে পৌঁছেছেন দুই কমিটির সদস্যরা। আমরা আশা করব, তাদের তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হবে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, অতীতে নৌ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন খুব কমই আলোর মুখ দেখেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা হল, দুর্ঘটনার পরপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়; কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও নজির নেই বললেই চলে। ফলে লঞ্চডুবির ঘটনায় কারও তেমন কোনো শাস্তিও হয় না। অথচ লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তির বিধান করা উচিত। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৈরি করা অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল আইনের খসড়া ২০১৮ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, যেখানে নৌযান দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

কিন্তু নৌযান মালিক-শ্রমিক নেতাদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সাজা কমিয়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন খসড়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নাবিক বা অন্য কারও অদক্ষতা, অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে কী ধরনের সাজা হবে তাও সরাসরি খসড়ায় রাখা হয়নি। এভাবে আইনটি চূড়ান্ত হলে নৌ দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা কতটা সাবধানতা অবলম্বন করবেন, সেটাই প্রশ্ন।

সোমবারের লঞ্চডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ জন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে, প্রাণ হারাবেন আরও অনেকে। কাজেই সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত