করোনার কারণে ছন্দপতন

টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

বিভিন্ন রোগের টিকা তৈরি হওয়ার আগে বিশ্ব ছিল এক বিপজ্জনক জায়গা। এখন সহজেই আরোগ্য লাভ করা যায়, আগে এমন রোগে অনেক মানুষের মৃত্যু হতো। জানা যায়, টিকা নেয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে লাখ লাখ শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, সব টিকা নিলে শিশু অনেক মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পায়। সময় মতো টিকা না নিলে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে শিশুর দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি নাও হতে পারে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এসব কারণে সারা বিশ্বে টিকা নেয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারীর কারণে প্রায় আড়াই লাখ মা ও শিশু ১০ ধরনের টিকা নেয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মহামারীর কারণে দুই মাস টিকাদান কর্মসূচিতে ছন্দপতন ঘটেছে। এতে ১০টি রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। যেসব মা ও শিশু টিকা নেয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের অভিভাবকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, টিকা নিতে না পারা মা ও শিশুর টিকা পর্যায়ক্রমে পরে দিলেও অসুবিধা হবে না। ইতোমধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, টিকার ডোজ পুরোটা দিলে মা-শিশু নিরাপদ থাকে। করোনা মহামারীর কারণে টিকাদান কর্মসূচিতে ছন্দপতন ঘটায় যেসব মা ও শিশু টিকা নেয়া থেকে বঞ্চিত, তারা যাতে পুনরায় সঠিক সময়ে সব ধরনের টিকা নিতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের দেশে মা ও শিশুর টিকা নেয়ার বিষয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সহজে এ সেবা পাওয়ার কারণে বর্তমানে তাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। করোনা মহামারীর কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এ অবস্থায় দেশে করোনার ভয়াবহতা না কমলে, মানুষ আগের মতো টিকা নেয়ার বিষয়ে আগ্রহী হবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। বলা বাহুল্য, নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যাতায়াত করাও মা ও শিশুর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এখনও দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সচেতন নন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কতজন টিকাদান কেন্দ্র আসতে পারবেন, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এ অবস্থায় করোনা মহামারী চলাকালে মা ও শিশুর সুরক্ষার স্বার্থে টিকা প্রদানে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার। অর্থাৎ মা ও শিশু যাতে নিজ বাসায় বসেই এ সেবা পেতে পারে, তেমন পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে বড় কোনো বিপর্যয় সৃষ্টি হলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই এ খাতে যাতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশে এখনও করোনাভাইরাসের তাণ্ডব চলছে। এ মহামারী কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে, এ বিষয়ে এখনও সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কর্তৃপক্ষকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে চলমান মহামারীর মতো অন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টির কারণে টিকাদান কর্মসূচির মতো জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় কোনো রকম ছন্দপতন না ঘটে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত