ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি

শিক্ষকদের অধঃপতন দুর্ভাগ্যজনক

  সম্পাদকীয় ০৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ঘুষ, দুর্নীতি-অনিয়ম জেঁকে বসেছে। শিক্ষক নিয়োগে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ থেকে শুরু করে মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়ম করে দুই শতাধিক ডে-লেবার নিয়োগ, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না কুষ্টিয়ার মনোরম ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

জানা যায়, বর্তমান ভিসি ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর সময়ে ৮ বিভাগে ৬৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এসব নিয়োগে বড় ধরনের ঘুষের লেনদেন ওপেন সিক্রেট। শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত অন্তত ৫টি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ভিসির ঘনিষ্ঠ মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আরিফ হাসান খান নামে এক শিক্ষক নিয়োগপ্রার্থীর কাছে ২৮ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও পরে তা কমিয়ে ১৮ লাখ করা হয়; কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় সব যোগ্যতা থাকার পরও আরিফকে ইন্টারভিউ কার্ড দেয়া হয়নি।

এ ছাড়া সাবেক প্রক্টর ও একজন ইবি ছাত্রলীগ নেতা উন্নয়ন প্রকল্পের ৫৩৭ কোটি টাকার কাজ কেন্দ্রীয় এক ছাত্রলীগ নেতাকে দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলীকে চাপ দেন। এর বাইরে ভিসির ঘনিষ্ঠজনরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ২শ’র বেশি ডে-লেবার নিয়োগ দিয়েছেন, যারা কোনো কাজ না থাকার পরও জনগণের করের অর্থ থেকে বেতন পাচ্ছেন। এসব ঘটনায় ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে ভিসি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়ছয় করতে পারে না। সরকারের শীর্ষমহল ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উচিত সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ আর শিক্ষক হলেন মানুষকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করাতে শেখানোর কারিগর; কিন্তু সেই শিক্ষকদের মধ্যে যদি দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি করা ও প্রশ্রয় দেয়ার বিষয়টি জেঁকে বসে তবে গোটা জাতিকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হয়। সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রকোপ তা-ই প্রমাণ করে। আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষা না পেয়ে ছাত্ররা আদর্শবান হয় না এবং কর্মজীবনে সর্বোচ্চ ত্যাগ করে নীতির প্রশ্নে আপস না করার মানসিকতাও দেখা যায় না। কেবল ইবি নয়, দেশের প্রায় সব পাবলিক-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাই কম-বেশি একই রকম। ভিসিদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির খবর আসে প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকে, তবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারপ হবে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। উচ্চশিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে জাতির স্বার্থে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত