করোনাকালীন নতুন মুদ্রানীতি: পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে
jugantor
করোনাকালীন নতুন মুদ্রানীতি: পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে

  সম্পাদকীয়  

০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। প্রতিবারের মতো এবারও ছয় মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও এতে ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা যেমন থাকবে, তেমনি পুরো অর্থবছরব্যাপী লক্ষ্যমাত্রাও থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরের বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে এবার মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের ছাড় দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ পরিপ্রেক্ষিতে মুদ্রানীতির প্রায় সব ধরনের উপকরণ শিথিল করে বাজারে কম সুদে টাকার জোগান বাড়ানো হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে ঋণের সুদের হার যেমন কমবে, তেমনি ব্যাংক থেকে টাকা নেয়ার অন্যান্য খরচও হ্রাস পাবে। এর ফলে উদ্যোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী কম খরচে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন, যার প্রভাবে উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং এটি তাদের প্রতিযোগিতায় ফেরাতে সহায়তা করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী মুদ্রানীতিকে সম্প্রসারণশীল হতে হবে। বাজারে সহজে যাতে টাকার জোগান বাড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

করোনার তাণ্ডবে বিদায়ী অর্থবছরের মুদ্রানীতি যে তছনছ হয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। বেশিরভাগ খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবেলায় আগামী মুদ্রানীতি কেমন হতে পারে- এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আগামী মুদ্রানীতির জন্য অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মডেল তৈরি করেছেন। এবার মূলত করোনার প্রভাব ও স্থায়িত্বের অনুমানভিত্তিক হিসাব মাথায় রেখেই মুদ্রানীতি তৈরি করতে হচ্ছে।

আসন্ন মুদ্রানীতির সুষ্ঠু প্রয়োগ কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশন চ্যানেল বা প্রয়োগ পথগুলো সুগম করবে বলে আমরা আশাবাদী। মুদ্রানীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ খাতের স্থিতিশীলতার প্রশ্নটিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা আশা করব, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অধিকতর মনোযোগ দেবে। করোনাকালীন বাস্তবতায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেবেচিন্তে যথোপযুক্ত মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে এবং নতুন মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

করোনাকালীন নতুন মুদ্রানীতি: পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে

 সম্পাদকীয় 
০৯ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এ মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। প্রতিবারের মতো এবারও ছয় মাস মেয়াদি মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও এতে ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা যেমন থাকবে, তেমনি পুরো অর্থবছরব্যাপী লক্ষ্যমাত্রাও থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরের বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে এবার মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের ছাড় দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ পরিপ্রেক্ষিতে মুদ্রানীতির প্রায় সব ধরনের উপকরণ শিথিল করে বাজারে কম সুদে টাকার জোগান বাড়ানো হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে ঋণের সুদের হার যেমন কমবে, তেমনি ব্যাংক থেকে টাকা নেয়ার অন্যান্য খরচও হ্রাস পাবে। এর ফলে উদ্যোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী কম খরচে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন, যার প্রভাবে উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং এটি তাদের প্রতিযোগিতায় ফেরাতে সহায়তা করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী মুদ্রানীতিকে সম্প্রসারণশীল হতে হবে। বাজারে সহজে যাতে টাকার জোগান বাড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো।

করোনার তাণ্ডবে বিদায়ী অর্থবছরের মুদ্রানীতি যে তছনছ হয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। বেশিরভাগ খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব মোকাবেলায় আগামী মুদ্রানীতি কেমন হতে পারে- এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আগামী মুদ্রানীতির জন্য অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মডেল তৈরি করেছেন। এবার মূলত করোনার প্রভাব ও স্থায়িত্বের অনুমানভিত্তিক হিসাব মাথায় রেখেই মুদ্রানীতি তৈরি করতে হচ্ছে।

আসন্ন মুদ্রানীতির সুষ্ঠু প্রয়োগ কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির ট্রান্সমিশন চ্যানেল বা প্রয়োগ পথগুলো সুগম করবে বলে আমরা আশাবাদী। মুদ্রানীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ খাতের স্থিতিশীলতার প্রশ্নটিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা আশা করব, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অধিকতর মনোযোগ দেবে। করোনাকালীন বাস্তবতায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেবেচিন্তে যথোপযুক্ত মুদ্রানীতি প্রণয়ন করবে এবং নতুন মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে, এটাই প্রত্যাশা।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস