শিক্ষকদের ওপর করোনার প্রভাব

সরকারের বিশেষ মনোযোগ কাম্য

  সম্পাদকীয় ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে দেশে সবচেয়ে সংকটে পড়েছে যেসব খাত, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষা খাত; আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, বেসরকারি শিক্ষা খাত।

করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিরও আগে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত, কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

করোনার এ দুঃসময়ে প্রাইভেট টিউশনি ও কোচিং কার্যক্রমও রয়েছে বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বন্ধ, তাই মধ্য মার্চ থেকে বেতন পাচ্ছেন না বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

ফলে তাদের অনেকের দিন কাটছে অনাহারে, অর্ধাহারে। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সংসার খরচ ইত্যাদি মেটাতে না পারায় অনেকে বাসা ছেড়ে ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। ফলে একদিকে আর্থিক কষ্ট, অন্যদিকে সামাজিক বাস্তবতার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে শিক্ষক সম্প্রদায়কে। এ পরিস্থিতি বাস্তবিকই দুঃখজনক।

এটা ঠিক, বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এর ফলে শিক্ষকরা এককালীন ৫ হাজার এবং কর্মচারীরা ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ টাকা বিতরণ করা হবে।

তবে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে এককালীন হিসাবে এ টাকা বেশিকিছু নয়। প্রতি মাসে এ পরিমাণ টাকা পেলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট লাঘব হতে পারত। উল্লেখ্য, দেশে বেসরকারি, নন-এমপিও ও প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৬০ হাজার।

এর মধ্যে কেজি স্কুলগুলোতে ৬ লাখ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই লাখ, বেসরকারি নন-এমপিও স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার।

এর বাইরে শতাধিক ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। অনার্স-মাস্টার্স কলেজে শিক্ষক আছেন সাড়ে ৫ হাজার। করোনার কারণে তাদের অধিকাংশের বেতন-ভাতা হয়ে গেছে অনিয়মিত। তারা সবাই রয়েছেন সংকটে।

বস্তুত, করোনার ব্যাপকতা যেন শিক্ষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকাল কবে শেষ হবে সে বিষয়টি অনিশ্চিত থাকায় তাদের অবস্থার আশু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এ বাস্তবতায় দেশের শিক্ষকসমাজের এই বৃহত্তর অংশটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।

অনুদানের পাশাপাশি এই দুঃসময়ে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর এবং জাতির কাণ্ডারি। কাজেই শিক্ষক শ্রেণিকে সরকারের মনোযোগ থেকে দূরে রাখা হলে সমাজের জন্য এর ফল ভালো হবে না।

তাই আমরা মনে করি, শিক্ষকদের বাঁচাতে হবে যে কোনো উপায়ে। তাদের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। শিক্ষকদের কষ্ট লাঘবে সাময়িক কিছু প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও ভাবতে হবে সরকারকে।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত